দুদকে সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ, নিজেকে নির্দোষ দাবি
সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মামলা ও জামিন বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে দুদকে। অভিযোগগুলো বর্তমানে যাচাই বাছাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শুক্রবার ৬ মার্চ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে এক ডজনের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে, যেখানে অর্থ আত্মসাৎ, বিচারক পদায়নে অনিয়ম, বদলি বাণিজ্য এবং অর্থ পাচারের মতো বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো যাচাই বাছাই পর্যায়ে রয়েছে।
দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, কমিশনে কোনো অভিযোগ এলে তা প্রথমে যাচাই বাছাই কমিটির মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় স্কোর অর্জন করলে তা অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়।
দুদকের একটি সূত্র জানায়, সাবেক এই আইন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে মামলার জামিন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, বিচারক পদায়নে প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিচারিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও এসেছে। একই সঙ্গে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্তের আলোচনায় রয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে যেকোনো ব্যক্তিকেই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ড. আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে বা তার আগে পরে কখনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। নিজের বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, জীবনে এক টাকাও অবৈধভাবে অর্জন করেননি এবং কোনো অনিয়মে জড়াননি।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বে থাকাকালে আত্মীয় স্বজনকে কোনো ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়নি এবং কোনো স্বজনপ্রীতির ঘটনাও ঘটেনি। তিনি দাবি করেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় কোনো নতুন সম্পদ অর্জন করেননি এবং নিয়ম অনুযায়ী আয়কর বিবরণীতে সব সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
ড. আসিফ নজরুল আরও জানান, দায়িত্ব পালনকালে তিনি ব্যক্তিগত বা আঞ্চলিক স্বার্থে কোনো পদক্ষেপ নেননি। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ উন্নয়ন এবং লালবাগ শাহী মসজিদের জরুরি উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সহযোগিতার অনুরোধ করেছিলেন, যা নিয়ম মেনেই করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে দুদক জানিয়েছে, অভিযোগগুলো যাচাই বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আইনের শাসন ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি শক্তিশালী হলে রাষ্ট্র ও সমাজ আরও স্বচ্ছ এবং দায়িত্বশীল পথে এগিয়ে যেতে পারে বলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন।