দেশ আবারও স্বৈরতন্ত্রের পথে যাচ্ছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, সিলেটে নাহিদ ইসলামের মন্তব্য
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণতান্ত্রিক ধারার পরিবর্তে দেশ আবারও একদলীয় স্বৈরতন্ত্রের দিকে এগোচ্ছে কি না তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বুধবার ৪ মার্চ সিলেট নগরীর হিল ভিউ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির সিলেট বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়ে উদ্বেগের কারণ তৈরি হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়োগ প্রক্রিয়া, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের কার্যক্রমের উদাহরণ তুলে ধরে দাবি করেন, এসব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিকভাবে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তার মতে, অতীতে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও পরবর্তী সময়ের করণীয় নির্ধারণে বিভিন্ন ভুল হয়েছে, যার প্রভাব আজকের পরিস্থিতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক আন্দোলন বা কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও সুসংগঠিত ও প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি জানান, এবার কোনো ভুল না করে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চায় তার দল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম এবং ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব আবু বাকের মজুমদার। এছাড়া এনসিপির কেন্দ্রীয় ও সিলেট বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ইফতার ও দোয়া মাহফিলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ এগারো দলীয় জোটের সিলেট বিভাগের নেতৃবৃন্দও অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, রাজনৈতিক সংলাপ এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, মতভিন্নতা থাকলেও গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারস্পরিক সহনশীলতা ও সংলাপের সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।