নিজের ও পরিবারের ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রকাশ করলেন এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বচ্ছতার বার্তা তুলে ধরে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এসব তথ্য তুলে ধরেন।
বুধবার ৫ মার্চ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি স্ত্রী, পিতা ও মায়ের নামে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের তথ্য স্বচ্ছতার স্বার্থে প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব হিসাবের পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক স্টেটমেন্ট সাংবাদিকদের কাছে সফট কপি আকারে সরবরাহ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ডাচ বাংলা ব্যাংক পিএলসি তে থাকা তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত মোট জমা হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার ৯৬১ টাকা এবং মোট উত্তোলন হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার ৩৩৫ টাকা। বর্তমানে ওই হিসাবে স্থিতি রয়েছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা।
এছাড়া তার নামে সোনালী ব্যাংক পিএলসি তে আরেকটি হিসাব রয়েছে, যা খোলা হয় ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর। ওই হিসাবের তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত মোট জমা হয়েছে ১০ হাজার টাকা এবং উত্তোলন হয়েছে ৭০ টাকা। বর্তমানে হিসাবটিতে স্থিতি রয়েছে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা।
বিবৃতিতে তিনি তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব সম্পর্কেও তথ্য প্রকাশ করেন। প্রাইম ব্যাংক পিএলসি তে তার স্ত্রীর নামে খোলা একটি হিসাবের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১ মে থেকে ২০২৬ সালের ৪ মার্চ পর্যন্ত মোট জমা হয়েছে ৫১৫ টাকা এবং উত্তোলন হয়েছে ২ টাকা। বর্তমানে সেই হিসাবে স্থিতি রয়েছে ৬১৩ টাকা।
এছাড়া তার পিতার নামে থাকা একাধিক ব্যাংক হিসাবের তথ্যও তিনি প্রকাশ করেন। জনতা ব্যাংক পিএলসি তে থাকা একটি হিসাবে ২০২৬ সালের ৪ মার্চ পর্যন্ত বর্তমান স্থিতি রয়েছে ৫১ হাজার ৯৯০ টাকা। একই ব্যাংকে একটি ঋণ হিসাবের তথ্য অনুযায়ী মোট ১০ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার ২৫৪ টাকা এবং বর্তমানে বকেয়া রয়েছে ৬ লাখ ২৯ হাজার ৭৪৬ টাকা।
তার পিতার নামে রূপালী ব্যাংক পিএলসি তে থাকা আরেকটি হিসাবের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত মোট জমা হয়েছে ১১ লাখ ১৯ হাজার ১৫৫ টাকা এবং উত্তোলন হয়েছে ২১ লাখ ১০ হাজার ১৯৬ টাকা। বর্তমানে ওই হিসাবে স্থিতি রয়েছে ২৭ হাজার ৬০২ টাকা।
এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি তে থাকা একটি হিসাবে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৪ মার্চ পর্যন্ত মোট জমা হয়েছে ৮ লাখ ১২ হাজার ৩৪৮ টাকা এবং উত্তোলন হয়েছে ৮ লাখ ৪ হাজার ৪২ টাকা। বর্তমানে ওই হিসাবে স্থিতি রয়েছে ৬৬ হাজার ১০৮ টাকা।
এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি তে তার পিতার নামে ইসরাত এন্টারপ্রাইজ শীর্ষক একটি ব্যবসায়িক হিসাবের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৪ মার্চ পর্যন্ত মোট জমা হয়েছে ৪ লাখ ২ হাজার ৯ টাকা এবং উত্তোলন হয়েছে ১ হাজার ১০৬ টাকা। বর্তমানে হিসাবটিতে স্থিতি রয়েছে ৪ লাখ ৯০৩ টাকা।
এছাড়া তার মায়ের নামে রূপালী ব্যাংক পিএলসি তে থাকা একটি হিসাবের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৪ মার্চ পর্যন্ত মোট জমা হয়েছে ৯৪৮ টাকা এবং উত্তোলন হয়েছে ৭১৮ টাকা। বর্তমানে ওই হিসাবে স্থিতি রয়েছে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা।
বিবৃতিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, গত দেড় বছরের স্টেটমেন্ট অনুযায়ী তার পিতা ও মায়ের কিছু হিসাবের ক্ষেত্রে পূর্বের স্থিতির কারণে জমা ও উত্তোলনের যোগ বিয়োগের সঙ্গে বর্তমান স্থিতির পুরোপুরি সামঞ্জস্য নাও থাকতে পারে।
তিনি আরও জানান, উল্লিখিত নয়টি ব্যাংক হিসাবের সম্পূর্ণ ব্যাংক স্টেটমেন্ট ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়।
রাজনৈতিক অঙ্গনে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য প্রকাশ একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত। এমন উদ্যোগ জনজীবনে আস্থা ও দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনআস্থার ভিত্তিতেই একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। দায়িত্বশীল নেতৃত্বের এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে জনজীবনে সততা ও আস্থার নতুন বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে।