গণভোটের রায় অস্বীকারের চেষ্টা হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে, বললেন নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংস্কারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে এবং জনগণের রায়কে অস্বীকার করার যে কোনো উদ্যোগ দেশের জন্য অশনিসংকেত হতে পারে।
সোমবার ২ মার্চ সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে এনসিপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত রায়কে আদালতের মাধ্যমে খারিজ করার চেষ্টা চলছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এক নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময় থেকে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন শক্তি ছাত্র জনতার আন্দোলনের শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের কোথাও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে চাইলে এনসিপি রাজনৈতিকভাবে তার মোকাবিলা করবে।
অনুষ্ঠানে দলের সদস্যসচিব আকতার হোসেন বলেন, গণভোটে জনগণের সমর্থন সুস্পষ্ট ছিল এবং সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার কোনো প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি আদালতের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, দেশে কোনো ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা পুনরুত্থান ঘটুক, তা তারা দেখতে চান না। প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন এবং সংস্কারপ্রক্রিয়া বাস্তবায়নে এনসিপি দৃঢ় অবস্থানে থাকবে বলে জানান। তিনি বলেন, দলের কর্মীরা ঘোষিত সংস্কার বাস্তবায়নে সক্রিয় থাকবে।
ইফতার মাহফিলে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তাদের বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণভোট-পরবর্তী বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা উঠে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, গণভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও সংলাপ, আইনি কাঠামো এবং সাংবিধানিক পথেই সমাধান খোঁজা গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ। রাজনৈতিক অস্থিরতা নয়, বরং সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণই পারে দেশকে স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে নিতে।