ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন ঘিরে জোট রাজনীতিতে হিসাব-নিকাশ, উত্তরে জামায়াত আলোচনায়, দক্ষিণে এনসিপির তৎপরতা
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্ভাব্য প্রার্থিতা ও জোটগত সমীকরণ নিয়ে দলগুলোর অভ্যন্তরে চলছে জোর আলোচনা।
সোমবার ২ মার্চ রাজনৈতিক অঙ্গনে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের তারিখ এখনো ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন এবং দলীয় উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে ছয়টি আসনে জয় পাওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি এবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও সক্রিয় হতে চায়। দলটির নেতারা বলছেন, জোটগতভাবে নির্বাচন হলে অন্তত একটি সিটিতে নিজেদের প্রার্থী চায় তারা। এ নিয়ে জোটের শরিকদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
দলীয় একাধিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, জোটের হয়ে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত এলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এনসিপির মুখপাত্র এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। স্থানীয় সরকার খাতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সিটিতে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি পূর্বে ঢাকা ৮ আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং দক্ষিণ সিটিকে ঘিরে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের ভেতরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নাম সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছে। দক্ষিণে দলটির মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. আবদুল মান্নানের নামও ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে জোটগত সমঝোতার ভিত্তিতে কোনো কোনো সিটিতে শরিক দলকে ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও রাজনৈতিক মহলে শোনা যাচ্ছে।
এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে ঘিরে এনসিপির মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সর্দার আমিরুল ইসলাম ইতোমধ্যে জনসংযোগ বাড়িয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব উপযুক্ত মনে করলে তিনি মেয়র পদে নির্বাচন করবেন এবং নির্বাচিত হলে নাগরিক সেবায় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবেন।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, দল প্রাথমিকভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তার রয়েছে এবং সুযোগ পেলে নগর সেবায় তা কাজে লাগাতে চান।
দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি জানিয়েছেন, এখনো কোনো প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। তফসিল ঘোষণার পর জোটগত না এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজনে অংশ নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন দেশের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। তাই এই নির্বাচন কেবল স্থানীয় নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয় নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। শেষ পর্যন্ত কোন সমীকরণে কার প্রার্থী চূড়ান্ত হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক অঙ্গনের। নাগরিক প্রত্যাশা একটাই-যে নেতৃত্বই আসুক, নগর জীবনের বাস্তব সমস্যার টেকসই সমাধানই হোক প্রধান অঙ্গীকার।