অর্থ আত্মসাৎ ও চাঁদাবাজির মামলায় এনসিপি নেতা কারাগারে
বগুড়ায় অর্থ আত্মসাৎ ও চাঁদাবাজির মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা যুগ্ম সদস্যসচিব মিজানুর রহমান সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের জলেশ্বরীতলা কালী মন্দিরের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩০ আগস্ট রাতে সরকারি আজিজুল হক কলেজের সামনে রুবেল প্রামানিক নামে এক ব্যক্তি অবস্থানকালে অভিযুক্তসহ চার থেকে পাঁচজন মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান। অভিযোগ রয়েছে, তাকে জোরপূর্বক কলেজ অডিটোরিয়ামের পেছনে নিয়ে মারধর করা হয় এবং দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ আছে।
এ সময় তার বিকাশ হিসাব থেকে ২৮ হাজার ৩০০ টাকা এবং ব্যাংক হিসাবে থাকা আরও ২২ হাজার ৮০০ টাকা স্থানান্তর করে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় রুবেল প্রামানিক বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
বিকেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংশ্লিষ্ট মামলায় অর্থ আত্মসাৎ, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে হামলা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির বগুড়া জেলা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এসএমএ মাহমুদ বলেন, মিজানুর রহমান সাগর জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব পদে দায়িত্বে আছেন, তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তার কোনো পদ নেই। তিনি জানান, গত বছরের ৩০ অক্টোবর মামলা দায়ের হলেও ১ ডিসেম্বর তিনি কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হন এবং মামলার বিষয়টি সংগঠনের জানা ছিল না। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আদালতের রায়ে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচিত থাকবেন। ন্যায়বিচারের স্বার্থে স্বচ্ছ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকাই প্রত্যাশা।