ইফতারের দোয়া পড়ার নিয়ম ও সওয়াব
রমজান মাসে সিয়াম পালন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য ফরজ ইবাদত। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন, হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো, সূরা বাকারা আয়াত ১৮৩।
রোজা রাখার পর ইফতারের মুহূর্তটি দোয়া কবুলের বিশেষ সময় হিসেবে বিবেচিত। এ সময় মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনার জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেখানো নির্দিষ্ট দোয়া পাঠের আমল রয়েছে।
ইফতারের সময় পড়ার দোয়া হলো
اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
উচ্চারণ
আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু
অর্থ
হে আল্লাহ, আপনার সন্তুষ্টির জন্য আমি রোজা রেখেছি এবং আপনারই দেওয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করছি।
মুয়ায ইবন যুহরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতারের সময় এ দোয়া পাঠ করতেন। হাদিসটি সুনান আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে, হাদিস নম্বর ২৩৫০।
এ ছাড়া ইফতার সম্পন্ন করার পর তিনি আরও একটি দোয়া পড়তেন। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, ইফতারের পর নবীজি বলতেন
ذَهَبَ الظَّمَاءُ وَابْتَلَتِ الْعُرُوْقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللهُ
উচ্চারণ
জাহাবাজ জামাউ, ওয়াবতালাতিল উরুকু, ওয়া ছাবাতাল আঝরু ইনশাআল্লাহ
অর্থ
পিপাসা দূর হয়েছে, শিরা উপশিরায় সজীবতা ফিরে এসেছে এবং আল্লাহ চাইলে সওয়াবও স্থির হয়ে গেছে।
এ দোয়ার বর্ণনা মেশকাতুল মাসাবিহ হাদিস ১৯৯৩ এবং সুনান আবু দাউদ হাদিস ২৩৫৭ এ পাওয়া যায়।
ইফতারের সময় দোয়া পাঠ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি বান্দার পক্ষ থেকে সারা দিনের সংযম ও ইবাদতের স্বীকৃতি এবং আল্লাহর দরবারে বিনয়ী কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। রমজানের প্রতিটি ইফতার যেন আমাদের জন্য আত্মশুদ্ধির এক নতুন সূচনা হয়ে ওঠে, সেই প্রত্যাশাই থাকুক সবার অন্তরে।