শুরু হলো মাহে রমজান
আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়ার বার্তা নিয়ে শুরু হলো পবিত্র মাহে রমজান। বুধবার দেশের আকাশে রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে ১৪৪৭ হিজরি সনের রোজা শুরু হয়েছে। এশার নামাজের পর ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তারাবির নামাজ আদায় করেন এবং শেষ রাতে সাহরি গ্রহণের মধ্য দিয়ে সিয়াম সাধনায় প্রবেশ করেন।
বুধবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং স্পারসো থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে কমিটি রমজান শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়।
কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ থেকে রমজান গণনা শুরু হয়েছে। সে হিসেবে আগামী ১৬ মার্চ রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর উদযাপিত হবে।
এদিকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে বুধবার থেকেই রোজা শুরু হয়েছে। তাদের সঙ্গে মিল রেখে দেশের কিছু অঞ্চলেও এক দিন আগে রোজা পালনের খবর পাওয়া গেছে।
রমজান উপলক্ষে সরকারি অফিস-আদালতে নতুন সময়সূচি কার্যকর হয়েছে। আজ থেকে অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকছে।
ইসলাম ধর্মে রমজান হিজরি সনের নবম মাস এবং রোজা রাখা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মুসলমানদের জন্য রোজা ফরজ। তবে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, সফররত ব্যক্তি, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারী এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে নারীদের জন্য বিধান অনুযায়ী ছাড় রয়েছে।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এক বার্তায় রমজানকে আত্মশুদ্ধি ও সমাজ কল্যাণের মাস হিসেবে উল্লেখ করে সকলকে কোরআনের শিক্ষা অনুসরণ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ রমজানকে সংযম ও তাকওয়ার মাস হিসেবে বর্ণনা করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বাজার তদারকি জোরদারের আহ্বান জানান। একই সংগঠনের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের পৃথক বার্তায় রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, সিন্ডিকেট প্রতিরোধ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এই মাস ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে-এমন প্রত্যাশা এখন সবার।