হরিপুর উপরশ্যামপুরে মসজিদে ফয়জুল্যাহ উদ্বোধন, দোয়া মাহফিলে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা
হরিপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উপরশ্যামপুর এলাকায় একটি নতুন মসজিদের উদ্বোধন ঘিরে ধর্মীয় আবহে মুখর হয়ে ওঠে পুরো জনপদ।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মসজিদে ফয়জুল্যাহ আনুষ্ঠানিকভাবে মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং অনুষ্ঠিত হয় দোয়া মাহফিল।
জানা যায়, আলহাজ মো. হেলাল উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের নিজস্ব উদ্যোগ এবং সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। পরিবারের মরহুম পিতা এবং বড় ভাই আলহাজ শাহাব উদ্দিনসহ ইন্তেকালকৃত সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনায় এই ধর্মীয় স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই আলহাজ শাহাব উদ্দিন ইন্তেকাল করেছেন। বর্তমানে আলহাজ মো. হেলাল উদ্দিন বড় ভাইয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অপর দুই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে পারিবারিক ঐক্য ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী আয়োজনে স্থানীয় আলেম, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মুসল্লিরা অংশ নেন। দোয়া মাহফিলে মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, স্থিতি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক অনাড়ম্বর অথচ হৃদয়ছোঁয়া সমাবেশে।
আলহাজ মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ইসলামী দৃষ্টিতে মসজিদ নির্মাণ একটি স্থায়ী সওয়াবের কাজ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই মসজিদে যতদিন নামাজ, ইবাদত ও কোরআন তেলাওয়াত অব্যাহত থাকবে, ততদিন এর নেক সওয়াব তাঁর মরহুম পিতা ও বড় ভাইয়ের আমলনামায় পৌঁছাবে। তিনি এটিকে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি স্থায়ী কল্যাণকর উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, নতুন এই মসজিদ এলাকার ধর্মীয় চর্চা বিস্তারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং সামাজিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করবে। নিয়মিত ইবাদত ও ধর্মীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে এটি আগামী প্রজন্মকে নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেবে বলেও তারা প্রত্যাশা করেন।
একটি মসজিদ কেবল ইট পাথরের স্থাপনা নয়, এটি মানুষের আত্মিক আশ্রয়স্থল। মসজিদে ফয়জুল্যাহ সেই আলোকবর্তিকা হয়ে উঠুক, যেখানে প্রার্থনার সুরে জেগে থাকবে শান্তি, আর সওয়াবের ধারা পৌঁছে যাবে প্রিয়জনদের রুহের প্রশান্তির ঠিকানায়।