রোজা শুরুর তারিখ সংশোধন, যেদিন দেখা যাবে রমজানের চাঁদ
রমজান মাস মুসলিমদের কাছে কেবল সময় গণনার একটি অধ্যায় নয়, বরং আত্মসংযম, ইবাদত এবং আত্মশুদ্ধির এক অনন্য অনুশীলনের নাম। এই মাসকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রস্তুতি ও আবেগ থাকে গভীর ও ব্যাপক। তাই প্রতিবছরই রমজান শুরুর সময় নির্ধারণ নিয়ে মুসলিম সমাজে আগ্রহের পাশাপাশি আলোচনা তৈরি হয়।
এবার রমজানের চাঁদ দেখা নিয়ে নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সেন্টার আইএসি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ১৯ ফেব্রুয়ারি আমিরাতের আকাশে রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণা সংস্থার প্রাথমিক ধারণা ছিল, ১৭ ফেব্রুয়ারি সূর্যাস্তের পরপরই রমজানের চাঁদ দেখা যেতে পারে। তবে আইএসি জানিয়েছে, ওই দিন চাঁদের গঠন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা কম, বরং ১৯ ফেব্রুয়ারি সূর্যাস্তের পর স্বল্প সময়ের জন্য চাঁদ দেখা যেতে পারে। আইএসি অনুযায়ী, সেদিন আমিরাতের আকাশে প্রায় এক মিনিটের জন্য চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার কথা রয়েছে।
ইসলাম ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো রোজা বা সিয়াম। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা এবং ইন্দ্রিয় সংযম বজায় রাখাই রোজার মূল শিক্ষা। ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা রমজান মাসজুড়ে এই সিয়াম সাধনা পালন করে থাকেন।
রমজান মাসের ২৯ অথবা ৩০ তারিখে শাওয়াল মাসের চাঁদ উদিত হয়, যা মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের বার্তা নিয়ে আসে। ঈদুল ফিতর উদযাপনের মধ্য দিয়ে রমজানের দীর্ঘ সংযম ও সাধনার পর মুসলিমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যান।
এদিকে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যে রমজান শুরু হওয়ার একদিন পর থেকে রমজান গণনা শুরু হয়। সেই হিসাব অনুযায়ী আইএসি ঘোষিত পূর্বাভাস সত্য হলে ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের আকাশে রমজানের চাঁদ দেখা যেতে পারে এবং ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রমজানের আগমন প্রতিবারই মনে করিয়ে দেয়, সংযম শুধু একটি নিয়ম নয়, বরং মানুষের ভেতরের আলো জাগিয়ে তোলার সবচেয়ে সুন্দর পথ।