জাতীয় ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা বাড়াতে চালু হলো ১৯টি নতুন ক্লাউড সেবা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ জাতীয় ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন করে ১৯টি ক্লাউড সেবা চালু করেছে। এর ফলে ন্যাশনাল ডেটা সেন্টারের ক্লাউড অবকাঠামোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভৌত অবকাঠামো, স্টোরেজ, মেমোরি, প্রসেসিং ক্ষমতা, নিরাপত্তা এবং মনিটরিং এই পাঁচটি প্রধান কম্পোনেন্টের সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে জাতীয় ডেটা সেন্টারের আওতায় পরিচালিত ডিজাস্টার রিকভারি ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা বাস্তব চাহিদার তুলনায় সীমিত। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে একটি নতুন তিনতলাবিশিষ্ট টায়ার থ্রি সার্টিফায়েড পূর্ণাঙ্গ ডিজাস্টার রিকভারি ডেটা সেন্টার নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
নতুন ডেটা সেন্টারে উচ্চ বিদ্যুৎ সক্ষমতাসম্পন্ন দুই শতাধিক আইটি কেবিনেট ও রেক স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব রেকে কম্পিউটিং ওয়ার্কলোডের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ওয়ার্কলোডও হোস্ট করা যাবে। বর্তমানে এই সুবিধা মাত্র ১৬টি সাধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন রেকে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
সরকারের ছয় শতাধিক সংস্থার ই মেইল সিস্টেম এবং ক্লাউড স্টোরেজ সেবা নিশ্চিত করতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং অবকাঠামো হিসেবে নিউটানিক্স প্রাইভেট ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার স্থাপন করা হয়েছে। এর আওতায় আধুনিক জিপিইউ সেবাও যুক্ত করা হয়েছে।
এই অবকাঠামো ব্যবহার করে সরকারি বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজ পরিচালনার পাশাপাশি জেনারেটিভ এআই এবং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলভিত্তিক উদ্ভাবনী সেবা চালুর সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সরকারি ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন আধুনিকায়ন এবং সফটওয়্যার জীবনচক্র ব্যবস্থাপনায় ডেভওপস ও ডেভসেকওপস প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এসব উদ্যোগের ফলে বর্তমানে জাতীয় ডেটা সেন্টারের ক্লাউড অবকাঠামোর প্রসেসিং সক্ষমতা প্রায় ৪০ হাজার ভার্চুয়াল কোরে উন্নীত হয়েছে। মেমোরি সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭০ টেরাবাইট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রসেসিং সক্ষমতা প্রায় ৪০ পেটাফ্লপে পৌঁছেছে। এর একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে বাংলা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল উন্নয়নে ব্যবহার করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে প্রায় ৮ পেটাবাইট স্টোরেজ সক্ষমতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সুরক্ষার জন্য ফিজিক্যাল আইসোলেশন সুবিধাসহ অ্যান্টি র্যানসমওয়্যার স্টোরেজ যুক্ত রয়েছে। ছোট ও মাঝারি আকারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল প্রশিক্ষণের জন্য এনভিডিয়া ভোল্টা আর্কিটেকচারভিত্তিক টেনসর কোর জিপিইউ ব্যবহার করে ক্লাউড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্ম স্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে জাতীয় ডেটা সেন্টারে প্রথমবারের মতো সরকারি ক্লাউড সেবা চালু হলেও সে সময় মাত্র ১১টি ক্যাটাগরিতে সেবা দেওয়া হতো। ধারাবাহিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা, পারফরম্যান্স মনিটরিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন খাতে বর্তমানে এই ১৯টি নতুন ক্লাউড সেবা যুক্ত করা হয়েছে।