ক্ষমতায় গেলে ৫ লাখ গ্রাজুয়েটকে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি জামায়াতে ইসলামীর
ক্ষমতায় গেলে শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত ৫ লাখ গ্রাজুয়েটকে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির বক্তব্য অনুযায়ী, যোগ্য বিবেচিত গ্রাজুয়েটরা সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদে মাসিক ১০ হাজার টাকা করে এই ঋণ পেতে পারেন। এ সংক্রান্ত ঘোষণা পলিসি সামিট ২০২৬ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে দলটির পক্ষ থেকে আরও কিছু নীতিগত প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরা হয়। এতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে করের হার ১৯ শতাংশ এবং ভ্যাট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড চালুর কথা বলা হয়েছে, যাতে জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সেবা একত্রে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে দলটির দাবি। শিল্প খাতের জন্য তিন বছরের মেয়াদে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ স্থির রাখার প্রতিশ্রুতিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু এবং শ্রমিকদের ১০ শতাংশ মালিকানা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে আছে। শিক্ষা খাতে এক লাখ শিক্ষার্থীকে মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবছর ১০০ শিক্ষার্থীকে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার প্রস্তাব উল্লেখ করা হয়েছে। নারী শিক্ষার উন্নয়নে এডেন ও বদরুন্নেসা কলেজ একীভূত করে বড় আকারের নারী বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের কথাও দলটির ঘোষণায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
স্বাস্থ্যখাতে ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়। মা ও শিশু স্বাস্থ্যে গর্ভধারণ থেকে শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফার্স্ট থাউজেন্ড ডেইজ প্রোগ্রাম চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।