যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ; পরিবার পুনর্মিলনসহ বিভিন্ন পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে পরিবারভিত্তিক অভিবাসনসহ বিভিন্ন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে যারা পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, স্থগিতাদেশের কারণে তাদের অনেকের আবেদন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা স্পষ্ট না থাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিকল্পনা অনেক ক্ষেত্রে স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে এসব তথ্য বিভিন্ন পক্ষের ব্যাখ্যা ও নীতিগত পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থগিতাদেশটি মূলত অভিবাসন বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অপরদিকে পর্যটন, ব্যবসায়িক ভ্রমণ এবং শিক্ষার্থীদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা শ্রেণি এ সিদ্ধান্তের বাইরে থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সাধারণ দর্শনার্থী বা বর্তমানে শিক্ষার্থীদের চলাচলে তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার কথা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, তবে ভিসা প্রক্রিয়া ও যাচাই-বাছাই আরও কঠোর হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে।
নীতিগত দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক চার্জ বিধানকে কেন্দ্র করে আর্থিক সামর্থ্য যাচাই আরও জোরদার হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আয়-সম্পদ, স্পন্সরশিপ সক্ষমতা এবং সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি আছে কি না—এ ধরনের বিষয়গুলো আরও কড়াভাবে মূল্যায়ন করা হতে পারে। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে স্পন্সরদের দায়িত্ব-সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যদিও চূড়ান্ত প্রয়োগ ও ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে যারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান পরিবর্তন করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছেন বা যারা গ্রিন কার্ডধারী হয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের একাংশের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ব্যক্তিগত কাগজপত্র ও ভ্রমণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য আইনি পরামর্শ এবং সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।
সূত্র: বিবিসি বাংলা