প্রায় সাত দশক পরও গ্যাসবঞ্চিত জৈন্তাপুর, রেল নাকি গ্যাস কোনটি আগে, কি চায় জনগন
দেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের প্রায় সাত দশক পেরিয়ে গেলেও সিলেটের জৈন্তাপুরে এখনো গৃহস্থালি গ্যাস সংযোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি এলাকায় গ্যাস লাইন সম্প্রসারণ নাকি প্রস্তাবিত রেললাইন নির্মাণ কোনটি বেশি জরুরি, তা নিয়ে সচেতন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
১৯৫৫ সালে হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রে দেশের প্রথম গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখান থেকে উত্তোলিত গ্যাস দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হলেও জৈন্তাপুরের মানুষ নিজেরাই এই মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রসমাজ, সামাজিক সংগঠন ও সর্বস্তরের জনগণ ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। আমার সম্পদ আমি চাই, ঘরে ঘরে গ্যাস চাই স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন সময়ে কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি কেবল একটি সেবার প্রশ্ন নয়, বরং স্থানীয় জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়।
অন্যদিকে সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত প্রস্তাবিত রেলপথ নির্মাণকে ঘিরেও আশাবাদ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পর্যটন শিল্পের প্রসার, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পাথর ও খনিজসমৃদ্ধ এ অঞ্চলের ব্যবসা বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, রেল যোগাযোগ চালু হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তবে স্থানীয় জনগণের বড় একটি অংশের মত, বহু বছরের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে আগে গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা মনে করেন, জৈন্তাপুরসহ বৃহত্তর অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে প্রস্তাবিত রেললাইন প্রকল্পও দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত।