ইউএনও সুনন্দা রায়কে নিয়ে বিতর্ক নয়, তার কর্মদক্ষতাই হোক মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়ের বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, একজন সরকারি কর্মকর্তার পুরো কর্মজীবনকে কয়েক মিনিটের একটি বক্তব্য বা একটি শব্দের পুনরাবৃত্তি দিয়ে বিচার করা ন্যায়সঙ্গত নয়।
বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা মন্ত্রীকে স্যার বলে সম্বোধন করা বহু বছরের প্রচলিত রীতি। তাই স্যার বলা কোনো অপরাধ নয়, অশোভন আচরণও নয়। এটি মূলত সম্মান ও প্রটোকলের অংশ। কেউ হয়তো মনে করতে পারেন সম্বোধনটি বেশি হয়েছে, কিন্তু সেটি রুচি বা উপস্থাপনার বিষয় হতে পারে, অসততা বা অযোগ্যতার প্রমাণ নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও প্রায়ই পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে না। তাই একজন কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ, বিদ্রূপ বা অপমান না করে তার প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবা, সততা এবং দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করাই অধিক যুক্তিসঙ্গত।
গঠনমূলক সমালোচনা সব সময়ই স্বাগত। তবে সেই সমালোচনা যেন শালীন হয় এবং ব্যক্তির মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন না করে। মতের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু একজন সরকারি কর্মকর্তার সম্মান অক্ষুণ্ন রাখা সমাজের সবার দায়িত্ব।
সম্মান প্রদর্শন কখনো দুর্বলতা নয়। একইভাবে সম্মান গ্রহণও কোনো অপরাধ নয়। আমাদের উচিত একটি শব্দের পুনরাবৃত্তির চেয়ে একজন কর্মকর্তার কাজ, সততা এবং জনগণের প্রতি তার দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া। তাতেই ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র সবার মর্যাদা রক্ষা পাবে।