জৈন্তাপুরে আধুনিক কৃষি ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত
সিলেটের জৈন্তাপুরে কৃষির আধুনিকায়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ৬ জুলাই সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে দিনব্যাপী এ আয়োজনের পাশাপাশি উত্তম কৃষি চর্চা এবং জৈব বালাইনাশক বিষয়ক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সুনন্দা রায়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট জেলার উপপরিচালক মোহাম্মদ শামসুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট জেলার অতিরিক্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান, জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম, চারিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান করিম, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলিউর রহমান, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনোয়ার হোসাইন এবং জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সারওয়ার বিলাল। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ন দিলদার।
কংগ্রেসে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। আলোচনায় উচ্চফলনশীল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ধানের জাত সম্প্রসারণ, ডাল ও তেলবীজ উৎপাদন বৃদ্ধি, ফল ও সবজির আবাদ সম্প্রসারণ, আধুনিক সেচ প্রযুক্তির ব্যবহার, বীজ প্রত্যয়ন এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয় গুরুত্ব পায়।
বক্তারা বলেন, জৈন্তাপুরের উর্বর জমিতে উৎপাদিত জারা লেবু, নাগা মরিচ, শিম, শিমের বীজ এবং খাসিয়া পান স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও নিরাপদ কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলের কৃষি সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হবে এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পার্টনার প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের জন্য উত্তম কৃষি চর্চা বাস্তবায়ন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নারী ও তরুণদের কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কংগ্রেসে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারী, কৃষক, নারী উদ্যোক্তা, তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা, বিভিন্ন কৃষি সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। শেষে অতিথিরা প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন এবং কৃষক ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
আয়োজকরা জানান, নিরাপদ ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।