জৈন্তাপুরে নিরাপদ জারা লেবু উৎপাদনে GAP প্রোটোকলভিত্তিক প্রচার ও প্রচারণা অনুষ্ঠিত
নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত কৃষিপণ্য উৎপাদন সম্প্রসারণে সিলেটের জৈন্তাপুরে বাংলাদেশ GAP প্রোটোকল অনুসরণ করে উৎপাদিত জারা লেবুর প্রচার ও প্রচারণামূলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ৪ জুলাই জৈন্তাপুর উপজেলার লামা শ্যামপুর এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং কৃষিপণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিরাপদ লেবু উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক এএসএম গোলাম হাফিজ। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার বিকল্প নেই। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানো গেলে দেশের কৃষি খাত আরও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম। তিনি গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি ও জ্ঞান মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান জানান।
গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. মন্জুরুল কাদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বার্কের পার্টনার প্রকল্পের এজেন্সি প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর ও সিএসও ড. মো. আশরাফুল আলম এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান।
জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বানু চন্দ্র নাথ, জাবেল খলিল চৌধুরীসহ অন্যান্য কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে GAP প্রোটোকল অনুসরণ করে সফলভাবে জারা লেবু উৎপাদনকারী কৃষক হাবিবুর রহমানের খামার পরিদর্শন করেন অতিথিরা। এ সময় তারা মাঠপর্যায়ে নিরাপদ কৃষি চর্চা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন।
বক্তারা বলেন, আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করলে ফসলের গুণগত মান বজায় থাকে এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ কমে লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে আগ্রহ বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তারা। দেশের কৃষি খাতে এই ইতিবাচক পরিবর্তন ভবিষ্যতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।