নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে ইরান ছাড়ার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানে অবস্থানরত সব মার্কিন নাগরিককে অবিলম্বে দেশটি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতায় বলা হয়েছে, ইরান ত্যাগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সরাসরি সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা করা উচিত নয়।
সোমবার ১২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল এম্বাসি তেহরান এক বিবৃতিতে জানায়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় মার্কিন নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব ইরান ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিবৃতিতে নাগরিকদের নিজ নিজ ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে বলা হয় এবং উল্লেখ করা হয়, দেশ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে না।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, ইরানে মার্কিন নাগরিকদের জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেপ্তার বা আটক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। শুধুমাত্র মার্কিন পাসপোর্ট বহন করাও আটক হওয়ার কারণ হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রে দেশ ত্যাগের সময় কেবল ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যেসব মার্কিন নাগরিক দেশ ছাড়তে অক্ষম, তাদের জন্য নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্য, পানি, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী মজুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানজুড়ে অস্থিরতা চলমান রয়েছে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত করেছে।
২০২৫ সালের গ্রীষ্মকাল থেকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবং ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ঠেকাতেই এসব হামলা চালানো হয়েছিল, যদিও ইরান এ দাবি অস্বীকার করে আসছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প জানান, তার প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক কঠোর বিকল্প বিবেচনা করছে, যার মধ্যে সামরিক পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর জবাবে ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় বিদেশি শক্তির মদদ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।