আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়কে বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি বলল ইসলামী আন্দোলন
জুলাই গণআন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়কে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দলটি।
বিচারিক অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করলেও পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক প্রতিক্রিয়ায় দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ছাত্র জনতার বিরুদ্ধে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেওয়া এই রায় বিচার ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার একটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং এ জন্য তারা রায়কে স্বাগত জানান। তবে মামলার অধিকাংশ আসামি এখনো পলাতক থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
মামলার রায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং আরও বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু মোট আসামিদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক গ্রেপ্তার হওয়ায় বিচার বাস্তবায়নে বাধা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়া কেবল রায় ঘোষণার মধ্যেই শেষ নয়, বরং উচ্চ আদালতে শুনানি এবং পরবর্তী আইনগত ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত বাস্তবায়ন ঘটে। সে কারণে সাজাপ্রাপ্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা জরুরি।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অগ্রগতি এখনো চোখে পড়ছে না এবং এ ক্ষেত্রে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
রায়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে নির্দেশদাতাদের তুলনায় কার্যকরীদের শাস্তি বেশি হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। তার মতে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অধস্তন সদস্যদের ওপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ প্রভাব ফেলে, ফলে প্রকৃত দায় নির্ধারণে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
সবশেষে তিনি আইনের শাসনের প্রতি আস্থা রেখে আশা প্রকাশ করেন, সকল অপরাধী ন্যায়সঙ্গত শাস্তি পাবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।