মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তায় কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা এবং সদস্য সচিব এম এ রউফ এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।
শনিবার ১৪ মার্চ দেওয়া ওই বিবৃতিতে তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে অস্থিরতা ও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এমন অবস্থার মধ্যেও বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছেন। তারা নিজেদের পরিবারকে সহায়তা করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। তাদের পাঠানো রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন, সম্পদ ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যায় এবং প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হয়।
সংগঠনের নেতারা বলেন, এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কিন্তু সদ্য শুরু হওয়া জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়টি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা না হওয়ায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, সংসদের প্রতিটি কার্যদিবসে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয় তা জনগণের অর্থ এবং এর বড় একটি অংশ আসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স থেকে। তাই সংসদের প্রতিটি সময় যেন জনগণের কল্যাণে ব্যবহার হয় সে প্রত্যাশা দেশবাসীর।
অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা বলেন, প্রবাসীদের যেন তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখা হচ্ছে এমন ধারণা তৈরি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। বাস্তবে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। তিনি বলেন, প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধারা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে দেশের উন্নয়ন ও তাদের পরিবারের জীবিকা নিশ্চিত করছেন।
তিনি আরও জানান, প্রবাসীদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবি অযৌক্তিক নয় বরং দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এসব দাবি বিবেচনা করা উচিত।
অন্যদিকে সদস্য সচিব এম এ রউফ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই যেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দোয়া করেন এবং তাদের ত্যাগ ও পরিশ্রমকে সম্মান করেন। একই সঙ্গে তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রবাসীদের বর্তমান পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।