লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী সাংবাদিকদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে নারী সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও সাফল্যের নানা দিক তুলে ধরা হয়।
রোববার ৮ মার্চ পূর্ব লন্ডনের প্রিন্সলে স্ট্রিটে অবস্থিত ক্লাবের নিজস্ব কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের বাইরে বাংলা ভাষার গণমাধ্যমকর্মীদের বৃহৎ এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সাংবাদিকদের মধ্যে সৌহার্দ, সহযোগিতা ও পেশাগত উন্নয়নের পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠনটি ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিশেষ সুনাম অর্জন করেছে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান নারী সাংবাদিক শামীম চৌধুরী এবং বিবিসি এপ্রেন্টিস প্রতিযোগিতায় রানার আপ হওয়া তরুণ উদ্যোক্তা আনিসা খান।
বক্তব্যে শামীম চৌধুরী প্রবাসে সাংবাদিকতা পেশায় একজন নারী হিসেবে কাজ করার নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি দীর্ঘ কর্মজীবনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি বাংলা ও ভয়েস অফ আমেরিকায় কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা বলেন। একই সঙ্গে প্রবাসে বসবাসকালে ব্যক্তিগত জীবনে নানা প্রতিকূলতা ও সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন।
অন্য অতিথি বক্তা আনিসা খান তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, একজন এশীয় বংশোদ্ভূত তরুণী হিসেবে পথচলা সহজ ছিল না। নানা প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেই তাকে এগিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি বলেন, স্বপ্ন বড় হতে হবে এবং লক্ষ্য অর্জনে পরিকল্পনা ও কঠোর পরিশ্রম থাকতে হবে। তাহলেই সাফল্য অর্জন সম্ভব।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, প্রবাসে নারী সাংবাদিকদের পথচলা কখনো সহজ ছিল না। আশির ও নব্বইয়ের দশকে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি নারীদের জন্য সামাজিক ও পেশাগত সুযোগ ছিল সীমিত। নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেই তারা সমাজে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন।
অনেকেই উল্লেখ করেন, প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায়ও নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সীমিত সুযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অনেক নারী উদ্যোগ নিয়ে নতুন প্রজন্মকে বাংলা শিক্ষা দিয়েছেন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
সভায় বক্তারা আরও স্মরণ করেন যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও প্রবাসে বসবাসরত অনেক নারী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের অবদান ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে নারী দিবসের প্রতীকী রং হিসেবে অনেকেই গোলাপি পোশাক পরিধান করে অংশ নেন, যা অনুষ্ঠানের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। শেষে অতিথি বক্তাদের সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্লাবের লোগো খচিত উপহার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং শেষপর্যায়ে উপস্থিত সাংবাদিক ও অতিথিদের অংশগ্রহণে গ্রুপ ছবি তোলার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজনে উপস্থিত অনেকের মতে, এমন আয়োজন শুধু আলোচনা নয়, এটি প্রবাসে নারীর সংগ্রাম, সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার গল্প নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। নারীর সাহস, সংগ্রাম এবং স্বপ্নই সমাজকে আলোকিত করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়।