পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন ১৫ লাখ ছাড়াল, সিলেটি প্রবাসী প্রায় ৪৬ হাজার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ভোটাধিকার প্রয়োগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা। দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে অবস্থানরত ভোটার এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, পোস্টাল ভোটে নিবন্ধনের শেষ সময় পর্যন্ত মোট নিবন্ধনকারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন।
এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৪ জন এবং মহিলা ভোটার ২ লাখ ৫২ হাজার ২৪৬ জন। পোস্টাল ভোটে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ৭ হাজার ১২ জন এবং অনুমোদন পেয়েছেন ১৫ লাখ ২৬ হাজার ৬৭০ জন।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ নভেম্বর শুরু হওয়া পোস্টাল ভোট নিবন্ধন প্রক্রিয়া সোমবার ৫ জানুয়ারি রাত ১২টায় শেষ হয়।
মোট নিবন্ধনকারীদের মধ্যে সিলেটি প্রবাসীর সংখ্যা ৪৫ হাজার ৮০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৮ হাজার ৪৭৭ জন এবং মহিলা ভোটার ৭ হাজার ৩২৯ জন। সিলেটি প্রবাসীদের মধ্যে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ২২৫ জন এবং অনুমোদন পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৫৮১ জন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বাংলাদেশ থেকে পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৩০৪ জন এবং মহিলা ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ৮৩৬ জন। বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ১ হাজার ৫৬৮ জন এবং অনুমোদন পেয়েছেন ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৫৭২ জন।
দেশের ভেতরে ইন কান্ট্রি পোস্টাল ভোট ক্যাটাগরিতে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী রয়েছেন ৫ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ জন, নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪২ জন, আনসার ও ভিডিপি সদস্য ১০ হাজার ১০ জন এবং কারাগারে থাকা ভোটার ৬ হাজার ২৮৩ জন।
জানা গেছে, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর নিবন্ধিত ভোটাররা নিজ নিজ আসনের পছন্দের প্রার্থীকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। পরদিন থেকেই ফিরতি ডাক পাঠানো যাবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত আসনভিত্তিক প্রার্থী তালিকা, নাম ও প্রতীক দেখে ব্যালটে চিহ্ন দিয়ে ভোট প্রদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো বাধ্যতামূলক। ১২ ফেব্রুয়ারির আগে ব্যালট পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে সেই ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।
নির্বাচন কমিশন ভোটের গোপনীয়তা রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। ভোট দেওয়ার পর পোস্টাল ব্যালটের ছবি বা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় জাতীয় পরিচয়পত্র স্থগিত করার বিধান রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, কর্মস্থলের কারণে নিজ এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটাররা পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ পান। গত ১৮ নভেম্বর উদ্বোধন হওয়া এই অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বের ১৪৮টি দেশ থেকে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার পোস্টাল ভোটে নিবন্ধিত হয়েছেন।