জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
সিলেটের জকিগঞ্জ উজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক, গবেষক, আধ্যাত্মিক সমাজসেবক ও সালিশি ব্যক্তিত্ব হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। দীর্ঘদিনের ধর্মীয়, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ, মতবিনিময় সভা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, তিনি নিজেকে সামাজিক সম্প্রীতি, নৈতিক মূল্যবোধ এবং জনকল্যাণমুখী নেতৃত্বের একটি গ্রহণযোগ্য প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।
ধর্মীয় শিক্ষা প্রসার, মানবিক সেবা, সামাজিক উন্নয়ন এবং পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা রেখে তিনি স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। পাশাপাশি একজন লেখক ও কলামিস্ট হিসেবে সমাজ, শিক্ষা, নৈতিকতা এবং নাগরিক সচেতনতা বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখির মাধ্যমে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সৎ, পরিচ্ছন্ন ও জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এ বাস্তবতায় দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক অভিজ্ঞতা হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম আলোচিত মুখে পরিণত করেছে।
বর্তমানে তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংবাদিকতা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে রয়েছে জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সিলেটস্থ দুধরচক ঐক্য সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ড্রিম ড্রেস সিদ্দিক প্লাজার স্বত্বাধিকারী, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সিলেট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট, কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটার্স ওয়ার্ল্ডের সিলেট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট, জাতীয় দৈনিক বিকাল বার্তার স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠের স্পেশাল রিপোর্টার, বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহ সিলেট মহানগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক এবং হাবিবিয়া ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন জকিগঞ্জের উপদেষ্টা।
এ ছাড়া তিনি অতীতে কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও তৈয়ব কামাল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে তৈয়ব কামাল হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক এবং হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং তাঁর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে তাঁর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, তিনি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন, তাহলে জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি ভিন্ন মাত্রার প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাক্ষী হতে পারে।