সিলেট বিভাগ থেকে মন্ত্রিত্বের আলোচনায় একাধিক নাম, প্রত্যাশায় রাজনৈতিক অঙ্গন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই মন্ত্রিসভায় এই অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের ফল ঘিরে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রত্যাশা, বিশ্লেষণ ও সম্ভাবনার হিসাব-নিকাশ নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হওয়ায় এই অঞ্চলে দলীয় অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে। ফলে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় সিলেট থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ আসতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে পররাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণ কিংবা স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সিলেটের প্রতিনিধিত্ব বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
দলীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সূত্রের মতে, কেন্দ্রভিত্তিক তদারকি, প্রবাসী সম্প্রদায়ের সক্রিয় সম্পৃক্ততা এবং কৌশলগত প্রার্থী মনোনয়ন এই অঞ্চলে বিজয়ের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে। নির্বাচনের পর সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে দুই মেয়াদে নগরপিতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা এবার সিলেট চার আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাকে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
একইসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের নামও আলোচনায় আছে। এছাড়া ড. এনামুল হক, হবিগঞ্জের সাবেক মেয়র জি কে গউছ এবং অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়ার নাম কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে জানা যায়। নীতিনির্ধারণে অভিজ্ঞ ও উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিদের অর্থ, স্থানীয় সরকার অথবা পরিকল্পনা খাতে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
নবনির্বাচিত সংসদে সিলেট থেকে দুইজন মন্ত্রীপুত্রও প্রতিনিধিত্ব করছেন। সিলেট এক আসনে জয়ী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মালিকের সন্তান। মৌলভীবাজার তিন আসনে বিজয়ী এম নাসের রহমান সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ছেলে। তাদের নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও সিলেট নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছে। তাহসিনা রুশদীর লুনা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিভাগের প্রথম নারী সংসদ সদস্য হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি প্রয়াত ও নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী।
দলীয় পর্যায়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ড. এনামুল হক ও কলিম উদ্দিন মিলনের নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর নামও আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিয়েও সমন্বয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিলেট পাঁচ আসনে পরাজিত হলেও জমিয়ত প্রধান মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে বিশেষ কোটায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এসব আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা হিসেবেই থাকছে। তবে সিলেটের ভোটাররা প্রত্যাশা করছেন, তাদের বিপুল সমর্থনের প্রতিফলন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে।
অবশেষে সিলেটবাসীর আশা একটাই, যে প্রতিনিধিদের হাতে তারা আস্থা রেখেছেন, তারা যেন দায়িত্ব ও সততার সঙ্গে সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখেন। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন জনগণের প্রত্যাশা সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ নেয়।