বৃহস্পতিবার , ৩০ জুলাই ২০২৬
সাম্প্রতিক
২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স, প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের লিজ উদ্যোগ জনতার ভালোবাসায় সিক্ত এক আলোকোজ্জ্বল বিদায়, কোম্পানীগঞ্জে নজিরবিহীন মানবিক দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন ওসি রতন শেখ পিপিএম বাংলাদেশের বাজারের ৯৫ শতাংশ চিনির নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা, দোয়া ও সমর্থন চাইলেন মোঃ সেলিম আহমদ সরকারি কর্মকর্তার পরিচয়ে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান পুলিশের বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ২ ডলারের বেশি বেড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা জাপানে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান বৈশ্বিক এআই নীতিমালা প্রণয়নে সক্রিয় নেতৃত্ব চায় চীন দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান দেশে ফিরলে ব্যাপক জনসমাগম হতে পারে, মনে করছেন সাকিব ফ্রান্সে দাবানলের বিস্তার অব্যাহত, নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ সাংবাদিকতা জনকল্যাণে নিবেদিত দায়িত্বশীল সেবা, বিভাগীয় কমিশনার এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটিতে গ্যাস সংকট, স্বাভাবিক হতে লাগতে পারে আরও দুই সপ্তাহ ভারতে এক যুবককে বিয়ে করলেন তিন বোন, সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা নয়, আইন অনুযায়ী সব সুবিধা পাবেন, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেনাসদরে সাবেক সেনাপ্রধানদের ছবি পরিদর্শন, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে মেধাভিত্তিক পদোন্নতির ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ দলীয় নিয়োগে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অভিযোগ এনসিপির আখতার হোসেনের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ত্রিপলের নামাজের স্থানও অপসারণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্তে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে যাচ্ছেন সিইসি জাতীয় সাহিত্য সম্মেলনে কবি সাহিত্যিকদের মিলনমেলা, সম্মাননা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখর বাংলা একাডেমি সিলেট ব্যাটালিয়নের অতন্দ্র প্রহরী ভূমিকা, ১৯ ও ৪৮ বিজিবির নিরলস প্রচেষ্টায় নিরাপদ সীমান্ত, সুরক্ষিত দেশ গোয়াইনঘাটকে মাদকমুক্ত ও দালালামুক্ত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ওসি ওমর ফারুক জৈন্তাপুরের মানুষের হৃদয় জয় করে এবার কোম্পানিগঞ্জের ওসির দায়িত্বে মো. উসমান গনি
হোমঅর্থনীতিসাত মাসে রাজস্ব ঘাটতি ছাড়াল ৬০ হাজার কোটি টাকা

সাত মাসে রাজস্ব ঘাটতি ছাড়াল ৬০ হাজার কোটি টাকা

icon
দর্পণ টিভি লন্ডন
সাত মাসে রাজস্ব ঘাটতি ছাড়াল ৬০ হাজার কোটি টাকা

চলতি ২০২৫ থেকে ২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে জাতীয় রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জুলাই থেকে জানুয়ারি সময়ে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ ৬০ হাজার কোটির বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর সূত্র।

মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনায় জানা যায়, আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই লাখ ৮৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। কিন্তু তিনটি প্রধান খাতে মিলিয়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। সবচেয়ে বড় ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে।

এ সময়ে আয়কর আদায়ের লক্ষ্য ছিল এক লাখ তিন হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭৫ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। ফলে আয়কর খাতে ঘাটতি হয়েছে ২৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। করপোরেট কর, অগ্রিম আয়কর ও উৎস কর থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব না আসায় এ খাতে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমদানি পর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৮ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে ৬২ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। ফলে এ খাতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দাভাব, শিল্পে কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়া এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে শুল্ক আদায় প্রত্যাশিত হয়নি বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ভ্যাট খাতেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এ সময়ে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্য ছিল এক লাখ এক হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ৮৫ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা। এতে ঘাটতি হয়েছে ১৫ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আয় সংকোচন এবং ভোগ ব্যয় কমে যাওয়ার প্রভাব ভ্যাট আদায়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকার পরিবর্তনের আগে থেকেই অর্থনীতিতে দুর্বলতা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহল উল্লেখ করছে। ব্যবসা বাণিজ্যে স্থবিরতা, পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট, ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা এবং উচ্চ সুদের হার সামগ্রিক পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ায় ভোক্তা ব্যয়ও কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আয়ে।

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ব্যবসার পরিধি ও টার্নওভার না বাড়লে রাজস্বও বাড়বে না। আইন শৃঙ্খলা, করনীতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি বিনিয়োগে বড় ভূমিকা রাখে। পরিবেশ অনুকূল না হলে বড় বিনিয়োগ আসবে না।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এর আগে নভেম্বর ও ডিসেম্বরেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি ছিল। বাসাভাড়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় বৃদ্ধির চাপ সাধারণ মানুষের আয়কে সংকুচিত করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ সুদের হার নীতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত ফল এখনো দেয়নি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব ঘাটতির এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাজেট বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন ব্যয়ে চাপ বাড়তে পারে। তাই বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যবসায়িক আস্থা পুনরুদ্ধার এবং কর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।

রাষ্ট্রের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড টিকিয়ে রাখতে শক্তিশালী রাজস্ব ভিত্তি অপরিহার্য। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর নীতি ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপই পারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং কোষাগারে প্রাণসঞ্চার করতে।