মনোনয়ন গ্রহণ ও বাতিলের বিরুদ্ধে প্রথম দিনে নির্বাচন কমিশনে ৪২টি আপিল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে প্রথম দিনে নির্বাচন কমিশনে মোট ৪২টি আপিল দায়ের করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ৪১টি এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের আদেশের বিরুদ্ধে ১টি আপিল করা হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে স্থাপিত আপিল দায়ের কেন্দ্রে এসব আপিল জমা দেওয়া হয়। অঞ্চলভিত্তিক ১০টি বুথের মাধ্যমে আপিল গ্রহণ করা হয় বলে কমিশন জানিয়েছে।
অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে খুলনা অঞ্চল থেকে ৩টি, রাজশাহী অঞ্চল থেকে ৫টি, রংপুর অঞ্চল থেকে ৩টি, চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে ২টি, কুমিল্লা অঞ্চল থেকে ৫টি, ঢাকা অঞ্চল থেকে ১৫টি, ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে ১টি, বরিশাল অঞ্চল থেকে ১টি এবং ফরিদপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ৭টি আপিল দায়ের করা হয়েছে। কুমিল্লা অঞ্চল থেকেই মনোনয়নপত্র গ্রহণের আদেশের বিরুদ্ধে একমাত্র আপিলটি করা হয়েছে।
আপিল দায়ের, শুনানি ও নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের আদেশে সংক্ষুব্ধ কোনো প্রার্থী, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্ধারিত নিয়মে আপিল দায়ের করতে পারবেন। আপিলের ক্ষেত্রে মূল কাগজপত্রের এক সেট ও ছয় সেট অনুলিপি দাখিল করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল দায়ের করা যাবে। এ জন্য আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে অঞ্চলভিত্তিক ১০টি বুথ চালু রয়েছে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনে দায়ের করা আপিলগুলোর শুনানি আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে পারে। এসব শুনানি নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ গ্রহণ করবে।
শুনানির সময়সূচি অনুযায়ী, ১০ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিল, ১১ জানুয়ারি ৭১ থেকে ১৪০, ১২ জানুয়ারি ১৪১ থেকে ২১০, ১৩ জানুয়ারি ২১১ থেকে ২৮০, ১৪ জানুয়ারি ২৮১ থেকে ৩৫০, ১৫ জানুয়ারি ৩৫১ থেকে ৪২০, ১৬ জানুয়ারি ৪২১ থেকে ৪৯০, ১৭ জানুয়ারি ৪৯১ থেকে ৫৬০ এবং ১৮ জানুয়ারি অবশিষ্ট আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশন জানায়, শুনানি শেষে আপিলের সিদ্ধান্ত মনিটরে প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি রায়ের পিডিএফ কপি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পক্ষগুলোর ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানো হবে এবং কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক থেকেও রায়ের অনুলিপি বিতরণ করা হবে।