ইরান ইস্যুতে সামরিক প্রস্তুতি, ট্রাম্প কি যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ইরান নীতিতে নতুন করে বিতর্ক তীব্র হয়েছে, যেখানে তার সামরিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে কি না তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারের সামরিক প্রস্তুতির নির্দেশনা এবং ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি বিমান হামলার সম্ভাবনার ইঙ্গিত এ বিতর্ককে আরও জোরদার করেছে।
প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা চালানোর প্রশ্নে হোয়াইট হাউসে সর্বসম্মত সমর্থন নেই। এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রশাসনের ভেতরে এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গড়ে ওঠেনি।
ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই ইরানকে ঘিরে কঠোর বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করছেন। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণের পথে তিনি এগোচ্ছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে এখনো পর্যন্ত তিনি সরাসরি আমেরিকান জনগণের সামনে স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করেননি, কেন এই সামরিক প্রস্তুতি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীদের একটি অংশ মনে করছে, সামরিক উত্তেজনা বাড়ানো হলে তা চলতি বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা বলছেন, ভোটারদের বড় অংশের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বিভিন্ন জনমত জরিপেও দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ নাগরিকের অগ্রাধিকার তালিকায় অর্থনৈতিক চাপই শীর্ষে রয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা না হলে একাধিকবার হামলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। অপরদিকে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, নতুন করে আক্রমণ হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ফলে দুই দেশের অবস্থান ক্রমেই মুখোমুখি হয়ে উঠছে।
অতীতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকারের কঠোর পদক্ষেপের পর জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রথম হামলার হুমকি দেন, যদিও পরে সে অবস্থান থেকে সরে আসেন। সম্প্রতি তিনি পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের দাবির সঙ্গে সামরিক চাপের বিষয়টি যুক্ত করেছেন এবং শাসন পরিবর্তনের প্রসঙ্গও উত্থাপন করেছেন। তবে সম্ভাব্য বিমান হামলা কিভাবে এমন রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে পারে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র শক্ত অবস্থান প্রদর্শন করছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুর্বলতার বার্তা এড়াতে প্রয়োজনে হুমকি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কূটনীতি ও সামরিক শক্তির সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করছে পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ গতি। বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা—সবকিছু মিলিয়ে এ সিদ্ধান্তের প্রভাব বহুমাত্রিক হতে পারে। শেষ পর্যন্ত শান্তি না সংঘাত, কোন পথে এগোবে বিশ্বরাজনীতি—সেই প্রশ্নেই এখন দৃষ্টি সবার।