স্পিকারের নাম প্রায় চূড়ান্ত, ঘোষণা ২৬ তারিখের মধ্যে
জাতীয় সংসদের স্পিকার পদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জয়নুল আবেদীন ও আবদুল মঈন খান–এর নাম বিভিন্ন মহলে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। আগামী ২৬ তারিখের মধ্যে স্পিকারের নাম ঘোষণা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলীয় ও সংসদীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীনের দীর্ঘ আইনজীবী অভিজ্ঞতা, সাংবিধানিক ও নির্বাচনী আইন বিষয়ে দক্ষতা এবং রাজনৈতিক সক্রিয়তা তাঁকে আলোচনায় এগিয়ে রেখেছে। সাংবিধানিক, নির্বাচন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। যদিও দলীয়ভাবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান নরসিংদী-২ আসন থেকে চারবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রবীণ এই নেতা এখনো সরকারের বাইরে রয়েছেন। তাঁকে কোথায় দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। অনেকের ধারণা, তাঁকে স্পিকার পদে বিবেচনা করা হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাও আলোচনায় এসেছে।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদটি রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বপূর্ণ পদ। স্পিকার সংসদ অধিবেশন পরিচালনা, কার্যপ্রণালী বিধি প্রয়োগ, সংসদীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সদস্যদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। এ পদে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও সাংবিধানিক জ্ঞানের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ পরিচালনায় আইনি ব্যাখ্যা ও রুলিং প্রদানের দক্ষতা বিশেষ ভূমিকা রাখে। সে ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ আইনজীবীর ভূমিকা কার্যকর হতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংসদীয় সমীকরণ ও দলীয় কৌশলের ওপর।
২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম অধিবেশনেই সংসদ সদস্যদের ভোটে স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী বিদায়ী স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার নির্বাচনের বিধান থাকলেও এবার তা হচ্ছে না বলে জানা গেছে।