বাংলাদেশের নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানালেন মমতা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ টেনে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি ভারতের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।
মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি নবান্নে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন সেখানে সহিংসতা বা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ভারতে যদি নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা বা বিতর্ক তৈরি হয়, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য অস্বস্তিকর হওয়া উচিত।
তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে একে তুঘলকি কমিশন বলে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, কমিশন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রভাবাধীন থেকে কাজ করছে এবং বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের আরও চারটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহু নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম দেখেছেন, তবে বর্তমান কমিশনের আচরণকে তিনি পক্ষপাতদুষ্ট ও একপেশে বলে মনে করছেন। তার অভিযোগ, কমিশন রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অযথা হস্তক্ষেপ করছে, যার ফলে সাংবিধানিক ভারসাম্য ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামনে বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ার মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক ভূমিকা নিয়ে শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি আস্থা অটুট রাখতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই বিতর্ক সেই প্রশ্নকেই আবার সামনে এনে দিয়েছে।