আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেখ মুহাম্মদ আলী আল-আব্বাসি গ্রেফতার
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত পবিত্র আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেখ মুহাম্মদ আলী আল-আব্বাসিকে গ্রেফতার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যায় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকেই তাকে আটক করা হয়।
বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আল-আকসা চত্বরে অবস্থানকালে ইসরায়েলি পুলিশ সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করেন। তবে গ্রেফতারের সুনির্দিষ্ট কারণ বা তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বিবৃতি দেয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে আল-আকসা মসজিদের ইমাম ও খতিবদের ওপর বাড়তি নজরদারি ও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মুসল্লিদের প্রবেশে কড়াকড়ি এবং নিরাপত্তা তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ পরিস্থিতির মধ্যেই ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের মসজিদ চত্বরে প্রবেশের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জেরুজালেমের ওল্ড সিটি এবং আল-আকসা প্রাঙ্গণ ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশে বুধবার থেকে পবিত্র রমজান শুরু হয়েছে। তার আগের দিন প্রথম তারাবির নামাজ আদায় করতে হাজারো ফিলিস্তিনি আল-আকসা মসজিদে সমবেত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নামাজের সময় মসজিদের ভেতরের প্রার্থনালয় এবং খোলা চত্বর মুসল্লিতে পূর্ণ ছিল। আল-আকসার খতিব শেখ ইউসুফ আবু স্নেইনে ইমামতি করেন। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, নামাজ চলাকালে পুলিশ সদস্যরা প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা তদারকি করছেন।
তবে তরুণ ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে বাধা এবং নানা অজুহাতে বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগও সামনে এসেছে। মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উপাসনার অধিকার নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্ব।
রমজানের শুরুতেই আল-আকসা প্রাঙ্গণকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পবিত্র এই মাস মুসলিম বিশ্বের জন্য সংযম, প্রার্থনা ও শান্তির বার্তা বহন করে। সেই শান্তির আবহ যেন বজায় থাকে, এ প্রত্যাশাই এখন কোটি মানুষের।