ইউরোপ-বিরোধী সমালোচনার জবাব দিলেন কাজা কালাস
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমালোচনার প্রেক্ষিতে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চাইলে মস্কোকে আলোচনায় অর্থবহ ছাড় দিতে বাধ্য করতে হবে।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের শেষ দিনে রবিবার বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ইউরোপকে দুর্বল বা ক্ষয়িষ্ণু হিসেবে চিত্রিত করার সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, ইউরোপ কোনো বিলুপ্তপ্রায় সভ্যতা নয় এবং এ ধরনের বর্ণনা বাস্তবতার প্রতিফলন নয়।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মিত্রদের আশ্বস্ত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক অতীতের মতো ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তবে তিনি ইউরোপকে গণঅভিবাসন মোকাবিলায় আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান এবং সভ্যতা রক্ষার প্রশ্নে প্রতিরক্ষা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
রুবিওর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কালাস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ঐক্যের বার্তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব ইস্যুতে উভয় পক্ষের অবস্থান এক হবে এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। মতপার্থক্য থাকলেও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার আগ্রাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। কালাস বলেন, ইউরোপের নিরাপত্তা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে। তার মতে, যুদ্ধের ফলাফলই ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়া এখন কোনো সুপারপাওয়ার নয় এবং অভ্যন্তরীণভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। তবে আলোচনার টেবিলে মস্কো যদি যুদ্ধক্ষেত্রের চেয়ে বেশি সুবিধা পেয়ে যায়, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
ইইউর কূটনৈতিক নেতৃত্ব রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা সীমিত করার আহ্বান জানান এবং ইউক্রেনে সংঘাতের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও সামনে আনেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপ নিজেদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন জোরদারের বার্তা দিচ্ছে। নিরাপত্তা, ঐক্য ও দায়িত্ববোধের এই প্রশ্নে ইউরোপ এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ পথচলা আরও দৃঢ়ভাবে নির্ধারণ করতে চাইছে।