নতুন এমপিদের বরণে প্রস্তুত জাতীয় সংসদ ভবন
শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বরণ করতে প্রস্তুত। শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে সংসদ সচিবালয়। প্রাঙ্গণজুড়ে চলছে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম, জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।
রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নির্ধারিত সময়েই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অনুষ্ঠান আয়োজনে কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। একই দিন বিকেল ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হবে, যেখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের সময় সংসদ ভবনের অভ্যন্তরে যে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছিল, তা সম্পূর্ণভাবে মেরামত করে অধিবেশন পরিচালনার প্রস্তুতি কতদূর—এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি সংসদ সচিবালয়ের সচিব। তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। পরদিন নির্বাচন কমিশন ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রাম ২ ও চট্টগ্রাম ৪ আসনের গেজেট এখনো প্রকাশিত হয়নি।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল স্থগিত থাকা দুই আসনেও বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। দলটির মিত্ররা পেয়েছে তিনটি আসন। জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন ৭টিতে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে জয়লাভ করেছে।
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দুই দশক পর সরকার গঠনের পথে বিএনপি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের কাছে জনমানসে প্রত্যাশা বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংসদের কার্যক্রম একপেশে ছিল—এমন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এবার প্রাণবন্ত বিতর্ক, জবাবদিহি ও নীতিনির্ভর আলোচনার নতুন সংস্কৃতি ফিরে আসবে—এমন আশাই করছেন অনেক নাগরিক।
জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্য যেমন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রতীক, তেমনি এর ভেতরের বিতর্ক, মতভেদ ও সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করে দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা। নতুন প্রতিনিধিদের শপথের মধ্য দিয়ে সেই পথচলার আরেকটি অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে—যেখানে আস্থার সঙ্গে যুক্ত হবে দায়িত্ব, আর প্রত্যাশার সঙ্গে জবাবদিহি।