জাতীয় পার্টির প্রাথমিক বিজয় হয়েছে : জাপা মহাসচিব
১৩ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পরদিন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, তাদের প্রাথমিক বিজয় হয়েছে, কারণ শেষ পর্যন্ত তারা ভোটে অংশ নিতে পেরেছেন এবং ব্যালটে লাঙ্গল প্রতীক ছিল।
দেশের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি দাবি করেন, জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার নানা চেষ্টা হয়েছে। মিছিল-মিটিংয়ের মাধ্যমে দলটিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় পার্টিবিহীন রাজনীতির একটি ছক তৈরি করা হয়েছিল এবং ভোটের শতাংশে দল যেন ভালো করতে না পারে সে লক্ষ্যেও কৌশল নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দলটির বহু প্রার্থী অতীতে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে কৌশলে জনপ্রিয় প্রার্থীদের তৃতীয় অবস্থানে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে তার অভিযোগ। জাতীয় পার্টিকে হারানোর জন্য একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনে সমান সুযোগ না থাকার অভিযোগ তুলে জাপা মহাসচিব বলেন, প্রায় ৫০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় আপিল প্রক্রিয়ায় সময় নষ্ট হয়েছে। গত দেড় বছর জেলা পর্যায়ে কর্মসূচি করতে না দেওয়া, দলীয় কার্যালয়ে হামলা এবং গণমাধ্যমে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ২৪৫টি আসনে প্রার্থী দিলেও শেষ পর্যন্ত বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯৬ জনে। তবে কোনো আসনেই দলটির প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি। অনেক স্থানে ভোটের হার অত্যন্ত কম হওয়ায় তা দলের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে দলীয় কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার পর এমন ফল আগে কখনও হয়নি বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক ভাঙন ও নেতৃত্ব সংকট ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে। গত দুই বছরে দলটি একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়েছে। নির্বাচনের আগে নতুন ভাঙনে নেতৃত্ব কাঠামো দুর্বল হয়েছে বলে মত রয়েছে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে দলটি উভয় সংকটে ছিল বলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। নির্বাচন বর্জন করলে প্রতীক ও নিবন্ধন নিয়ে শঙ্কা ছিল। শেষ পর্যন্ত নানা চাপের মধ্যেই নির্বাচনে অংশ নেয় জাতীয় পার্টি।
নির্বাচনের আগে সংবাদ সম্মেলনে দলীয় চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছিলেন, একটি পক্ষ চায় জাতীয় পার্টি নির্বাচন থেকে সরে যাক, কিন্তু তারা মাঠ ছাড়বেন না এবং জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে নির্বাচনে থাকবেন।