৬১ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি গণতন্ত্রের বড় বার্তা বলে মন্তব্য প্রেস সচিবের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৬১ শতাংশ ভোটার উপস্থিতিকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হার তাৎপর্যপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রতিফলন। বাংলাদেশে ৭০ শতাংশের বেশি ভোটার উপস্থিতি নিয়ে অতীতে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার প্রেক্ষাপটে ৬১ শতাংশকে অনেকেই বাস্তবসম্মত বলে বিবেচনা করছেন।
তিনি অতীতের নির্বাচনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৫ শতাংশ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৮৭ শতাংশ উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও সমালোচনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রেস সচিবের বিশ্লেষণে বলা হয়, বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসে অবস্থান করায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকলেও অনেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। আনুমানিক ১ কোটি ৩০ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ নাগরিক বিদেশে বসবাস করেন। চলতি বছরে প্রথমবার ডাকযোগে ভোটের সুযোগ চালু হলেও নিবন্ধন করেছেন প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ভোটার। ফলে প্রবাসী ভোটারদের বড় অংশ ভোট দিতে পারেননি।
এছাড়া গ্রামে নিবন্ধিত কিন্তু শহরে বসবাসকারী নাগরিকদের বড় একটি অংশ সাধারণত ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকায় যান না বলে উল্লেখ করা হয়। ভাসমান জনগোষ্ঠী, প্রবীণ, অসুস্থ ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি নাগরিকদের অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতাও ভোটের হারকে প্রভাবিত করে। ব্যক্তিগত, ধর্মীয় কারণ বা ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
এসব বাস্তবতার আলোকে ৬১ শতাংশ উপস্থিতিকে অনেক বিশ্লেষক বিশ্বাসযোগ্য ও শক্তিশালী অংশগ্রহণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বলে উল্লেখ করেন শফিকুল আলম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সামাজিক ও জনতাত্ত্বিক স্তরে বিস্তৃত অংশগ্রহণ এই নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ এবং নারীদের উপস্থিতিও ছিল উৎসাহব্যঞ্জক। সব মিলিয়ে এ হার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের বার্তা বহন করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকাই এখন সময়ের বড় প্রত্যাশা।