নির্বাচনে পুলিশ সদস্যদের ২২ কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য কঠোর আচরণবিধি জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় ২২ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
১১ ফেব্রুয়ারি জারি করা এ নির্দেশনায় নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট বা সমর্থকের কাছ থেকে খাবার, উপঢৌকন কিংবা কোনো ধরনের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না। প্রার্থীদের সঙ্গে ছবি তোলা, ব্যক্তিগত আলাপচারিতা বা ঘনিষ্ঠ আচরণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভোটার কিংবা নির্বাচন কর্মকর্তার কাজে অযথা হস্তক্ষেপ করা যাবে না এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভোটকক্ষে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ভোটারদের কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থী বা প্রতীকের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে প্রভাবিত করা যাবে না। রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে বলপ্রয়োগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক মিছিল, সমাবেশ বা কার্যালয়ে উপস্থিত থাকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রকাশ, ব্যক্তিগত মন্তব্য প্রদান, গালিগালাজ, হুমকি বা অবমাননাকর আচরণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। নির্বাচনি আইন ও বিধিমালার পরিপন্থি কোনো নির্দেশ মানা যাবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক পোস্ট দেওয়া, শেয়ার করা বা মন্তব্য করা যাবে না। দায়িত্ব পালনের সময় অপ্রয়োজনে মোবাইল ফোন ব্যবহার কিংবা সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকাও নিষিদ্ধ। ভোটের দিন ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় ফোন ব্যবহার একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নির্বাচনসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ, ফলাফল বা সম্ভাব্য বিজয়ী সম্পর্কে পূর্বাভাসমূলক আলোচনা এবং স্পর্শকাতর ঘটনার ছবি বা ভিডিও অনুমোদন ছাড়া কারও কাছে পাঠানো যাবে না। দায়িত্বকালীন সময়ে ব্যক্তিগত আড্ডা, উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি কিংবা দলবদ্ধ হয়ে অবস্থান থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া জনসমাগমস্থল বা খোলা জায়গায় যত্রতত্র খাবার গ্রহণ, ফুটপাত বা টং দোকানে বসা, অশোভন পোশাক পরিধান কিংবা অপেশাদার আচরণ থেকেও বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি বাদাম, ভাপা পিঠা, চানাচুর, জিলাপি, বিস্কুট বা কলা জাতীয় মুখরোচক খাবার খাওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে, যাতে দায়িত্ব পালনে কোনোভাবেই শৃঙ্খলার ব্যত্যয় না ঘটে।
নির্বাচনকালীন এই কঠোর আচরণবিধির লক্ষ্য হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের জন্য একটি আস্থাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় পেশাদার আচরণই হতে পারে জনগণের প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ প্রমাণ।