তরুণদের হাতেই নতুন বাংলাদেশের দায়িত্ব দিতে চায় জামায়াত
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়তে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তিবান্ধব ও উদ্যমী তরুণরাই পারে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে এবং তাদের হাতেই নতুন বাংলাদেশের দায়িত্ব তুলে দিতে চান তারা।
বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ১০ ফেব্রুয়ারি, তরুণদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি নতুন ধারার রাষ্ট্র নির্মাণই তাদের লক্ষ্য। বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে শান্তি ও ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, এমন একটি রাষ্ট্র প্রয়োজন যেখানে পারিবারিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কেউ ক্ষমতার কেন্দ্রে বসতে পারবে না এবং সরকার পরিচালিত হবে জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে।
গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ নিরাপত্তা, সুশাসন ও ন্যায়বিচার চায়। রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার কার্যক্রমকে পূর্ণতা দিতে গণভোটে ইতিবাচক রায় প্রয়োজন। অতীতে নেওয়া কিছু সংস্কার উদ্যোগ সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সহজ নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ের কিছু সাহসী তরুণ সেই দৃঢ়তার উদাহরণ তৈরি করেছে। তাদের আত্মত্যাগ ও সাহস নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। এই দেশ সেই সাহসী সন্তানদের হাতেই নিরাপদ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে ক্ষমতাসীনদের একটি অংশ নির্বাচিত হওয়ার পর নিজেদের দেশের মালিক ভাবতে শুরু করেছে। ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠান দলীয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যার মাধ্যমে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বিস্তার লাভ করেছে। এই ব্যবস্থার অবসান ঘটানোই জামায়াতের প্রধান অঙ্গীকার বলে জানান তিনি।
তিনি দাবি করেন, অতীতে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিরা সংসদ ও বিভিন্ন স্তরের সরকারে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হননি এবং তারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, যে সমাজ নারীর সম্মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, সে সমাজ কখনো প্রকৃত উন্নতি অর্জন করতে পারে না। ক্ষমতায় গেলে নারীরা ঘরের বাইরে সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্বে মর্যাদার সঙ্গে ভূমিকা রাখবেন এবং কোনো বৈষম্য ছাড়াই তাদের মেধার মূল্যায়ন করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবাধিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার দেশ। এখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাই সমানভাবে নিরাপদে বসবাস করবে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ নির্যাতিত হলে তা প্রতিরোধে দলটি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দৃঢ় অবস্থান নেবে।
অর্থনীতি নিয়ে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। ব্যাংকিং খাতসহ প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক সব খাতে সংস্কার জরুরি এবং সে লক্ষ্যেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভাষণের শেষাংশে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তরুণদের শক্তি ও স্বপ্নের ওপর ভর করেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, যেখানে ভয় নয়, বরং আশা ও সম্মান নিয়ে মানুষ বাঁচতে পারবে।