যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশের বড় সাফল্য, পালটা শুল্ক কমে ১৯ শতাংশ
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে। দীর্ঘ আলোচনার পর ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে এই চুক্তি কার্যকর হয়, যার ফলে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক খাতে শুল্কসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের একটি বড় বাধা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
এই চুক্তির আওতায় পালটা শুল্কহার ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ঢাকা থেকে যুক্ত হয়ে চুক্তিতে সই করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান অংশ নেন।
গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তুলনামূলক বেশি শুল্কহার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তাদের তুলা ও কৃত্রিম তন্তুর ওপর বাংলাদেশের শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছিল। নতুন চুক্তির ফলে উভয় পক্ষের এই দাবি ও স্বার্থের মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে না, বরং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের সক্ষমতা আরও দৃঢ় করবে। বিশেষ করে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখে দেশ পড়তে যাচ্ছে, সেগুলো মোকাবেলায় এই চুক্তি একটি কার্যকর সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পথ সুগম করবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন আস্থার সঞ্চার করবে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার কঠিন বাস্তবতায় এই অগ্রগতি দেশের জন্য শুধু একটি কূটনৈতিক সাফল্য নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক শক্ত ভিত্তি।