আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো গুলি ব্যবহার করেনি দাবি প্রেস উইংয়ের
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নাকচ করেছে সরকারের প্রেস উইং। তারা জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোনো ধরনের গুলি ব্যবহার করা হয়নি।
৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই এলাকা ও আশপাশে সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও প্রথমদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করেনি। পরদিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে এবং এক পর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে পড়ে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়।
প্রেস উইংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশ নিশ্চিত করেছে, অভিযানে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তথ্যে জানা গেছে, এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে কারও শরীরে গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
সরকার পুনরায় জানিয়েছে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে ৮ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।
প্রেস উইং বলেছে, বিক্ষোভ দমনে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ সঠিক নয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরকারের মতে, এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই সুযোগ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে নাগরিকদের সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য। শেষ পর্যন্ত সরকার বিশ্বাস করে, জনগণের সচেতন অংশগ্রহণেই একটি গ্রহণযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব হবে।