পোস্টাল ব্যালটে মাত্র ৭ শতাংশ কারাবন্দির ভোটদান
দেশের কারাগারগুলোতে থাকা বন্দিদের মধ্যে খুবই সীমিতসংখ্যক এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে বর্তমানে প্রায় ৮৫ হাজার কারাবন্দির মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার অনুমোদন পেয়েছেন মাত্র ৫ হাজার ৯৬০ জন, যা মোট বন্দির প্রায় ৭ শতাংশ।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাত উল ফরহাদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দেশের ৭৫টি কারাগারের মধ্যে ৭১টি কারাগারে থাকা বন্দিরা পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। নতুন চারটি কারাগারে এখনো কোনো বন্দি না থাকায় সেখানে ভোটার তালিকায় কেউ অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পোস্টাল ভোটের জন্য মোট ৬ হাজার ৩১৩ জন বন্দি অনলাইনে নিবন্ধন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত ৫ হাজার ৯৬০ জনের নিবন্ধন অনুমোদিত হয়। এর মধ্যে গত ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৪৭ জন বন্দির ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। অবশিষ্ট ভোট এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন সম্পূর্ণভাবে অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় বন্দিদের নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকার প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করতে সময় লেগেছে। এ কারণেও ভোটগ্রহণের হার কম হয়েছে।
বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে বন্দির সংখ্যা স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি। ৪৩ হাজার ধারণক্ষমতার কারাগারগুলোতে ২০২৪ সালের আগস্টের আগে বন্দি ছিল প্রায় ৪৮ হাজার। পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৫ হাজারে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার বন্দি সাজাপ্রাপ্ত।
কারা কর্মকর্তারা জানান, অনেক সাজাপ্রাপ্ত বন্দির জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় এবং অনেকে আগ্রহ না দেখানোয় পোস্টাল ভোটে অংশগ্রহণ কম হয়েছে। পাশাপাশি, পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধনের পর কেউ জামিনে মুক্তি পেলে তিনি আর কারাগার থেকে ভোট দিতে পারেন না এবং বাইরে গিয়েও ভোট দেওয়ার সুযোগ হারান।
গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার। কারাগারের ভেতর থেকেও সেই অধিকার প্রয়োগের সুযোগ সীমিত হলেও, প্রতিটি প্রদত্ত ভোটই স্মরণ করিয়ে দেয় যে গণতন্ত্রের আলো পৌঁছাতে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে বাকি।