বেলুচিস্তানে ভয়াবহ হামলার পর পাকিস্তানের পাশে যুক্তরাষ্ট্র
পাকিস্তানের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে ভয়াবহ সশস্ত্র হামলায় অর্ধশতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় দেশটির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক এই সহিংস ঘটনাকে নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, বেলুচিস্তানে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে সংহতি প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে হামলার দায় স্বীকারকারী বেলুচ লিবারেশন আর্মিকে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ইরান ও আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ বেলুচিস্তান প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র বিদ্রোহ চলমান রয়েছে। বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো নিয়মিত নিরাপত্তা বাহিনী, বিদেশি নাগরিক এবং অন্যান্য অঞ্চলের পাকিস্তানিদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। অপহরণ ও সহিংসতার ঘটনাও সেখানে নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত সপ্তাহে বেলুচিস্তানের একাধিক জেলায় সমন্বিত হামলা চালানো হয়, যার দায় স্বীকার করে বিএলএ। এই হামলাকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে ২১৬ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে। এসব ঘটনায় ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এছাড়া ২২ জন নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
পাকিস্তান সরকার এই সহিংসতার জন্য ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুললেও ভারত তা সরাসরি অস্বীকার করেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বেলুচিস্তানের বিদ্রোহ এখন এক ধরনের অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া কেবল সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর বিপুল অস্ত্র বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে পৌঁছেছে, যা এই অঞ্চলের সহিংসতাকে আরও জটিল করে তুলেছে বলেও মত তাদের।
ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতার মাঝেও আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সংলাপের পথ খোলা থাকলে হয়তো একদিন বেলুচিস্তানের মানুষ শান্তি আর নিরাপত্তার আলোয় ফিরতে পারবে।