প্রথমবার ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত সেনাবাহিনীর টহল, মোতায়েন এক লাখ সদস্য
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত সেনাবাহিনীর টহল দেওয়া হচ্ছে। ভোটারদের নিরাপত্তা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবার এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যা আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলিস্তানে রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় সেনাবাহিনীর দায়িত্ব নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সেনাসদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন।
তিনি জানান, আগের নির্বাচনগুলোতে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪২ হাজার সেনাসদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করতেন। তবে এবার ভিন্ন বাস্তবতায় ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সদস্য কেন্দ্রে রাখার পাশাপাশি বাকি সেনাসদস্যদের মাঠে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত করা হয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মনজুর হোসেন বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার করাই এই বাড়তি মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য। এজন্য যানবাহনের স্বল্পতা সত্ত্বেও অসামরিক প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে গাড়ি ভাড়া করেও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সেনাসদস্যরা গত ২০ জানুয়ারি থেকেই মাঠে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে টহল দিচ্ছেন। ভোটাররা যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই সেনাবাহিনীর এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সেনাবাহিনীর এই ব্যাপক ও দৃশ্যমান উপস্থিতি নির্বাচনী পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।