আসছে নতুন শিক্ষা আইন, ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মতামত আহ্বান
দেশে মানসম্মত, বৈষম্যহীন ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন শিক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই লক্ষ্যে শিক্ষা আইন ২০২৬ এর একটি খসড়া প্রকাশ করে জনমত গ্রহণ শুরু করা হয়েছে।
নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, শিক্ষাকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হবে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ইমেইলে জনগণের মতামত গ্রহণ করা হবে।
খসড়া আইন অনুযায়ী, বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টার, নোট বই ও গাইড বইয়ের কার্যক্রম নিরুৎসাহিত করে তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাইভেট টিউশন নিয়ন্ত্রণে বিধিমালা প্রণয়নের কথাও বলা হয়েছে।
আইনে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তি, মানসিক নিপীড়ন, র্যাগিং ও সাইবার বুলিং নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে এবং এসব ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর চালুর কথা বলা হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অভিন্ন ন্যূনতম যোগ্যতা অনুসরণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তর নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাবও রয়েছে।
খসড়ায় প্রথমবারের মতো কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সমান গুরুত্ব দিয়ে ডিপ্লোমা পর্যায় পর্যন্ত উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
উচ্চশিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের ভূমিকা জোরদার, স্নাতক পর্যায়ে অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি চালু, জাতীয় গবেষণা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় গবেষণাগার স্থাপনের প্রস্তাবও খসড়া আইনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার জানিয়েছেন, দীর্ঘ আলোচনা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এই খসড়া আইন তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আইন দিকনির্দেশনা দেবে এবং ভবিষ্যতে বিধিমালা ও নীতির মাধ্যমে একে আরও কার্যকর করা হবে।
প্রস্তাবিত আইনটি ১১টি অধ্যায় ও ৫৫টি ধারায় বিন্যস্ত এবং এটি কার্যকর হলে বিদ্যমান অন্য যেকোনো আইনের ওপর প্রাধান্য পাবে।
একটি শক্তিশালী শিক্ষা আইন শুধু শ্রেণিকক্ষ বদলায় না, এটি প্রজন্মের চিন্তা, স্বপ্ন আর দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত গড়ে তোলে।