গ্যাং সহিংসতার প্রেক্ষাপটে হাইতির উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন
গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্রমবর্ধমান গ্যাং সহিংসতার মধ্যে হাইতির উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মার্কিন দূতাবাস জানায়, ইউএসএস স্টকডেল, ইউএসসিজিসি স্টোন এবং ইউএসসিজিসি ডিলিজেন্স পোর্ট অ প্রিন্স উপসাগরে প্রবেশ করেছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই নৌবহরের উপস্থিতি হাইতির নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।
দূতাবাসের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশে নৌবহরটি মোতায়েন করা হয়েছে। এটি অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার নামের একটি সামরিক অভিযানের অংশ, যার লক্ষ্য ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক পাচার প্রতিরোধ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানের আওতায় পরিচালিত নৌ অভিযানগুলোতে এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
দীর্ঘদিনের সহিংসতা ও অচলাবস্থার পর হাইতি বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দেশটির প্রেসিডেনশিয়াল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের মেয়াদ ৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গ্যাং সহিংসতার চাপে ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আরিয়েল অঁরি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ২০১৬ সালের পর থেকে দেশে কোনো জাতীয় নির্বাচন না হওয়ায় রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে, যার প্রভাব পড়েছে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর।
পশ্চিম গোলার্ধের অন্যতম দরিদ্র দেশ হাইতির বহু এলাকা বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব গ্যাং হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র হাইতির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মকর্তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সশস্ত্র গ্যাংগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিংবা তাদের সহায়তা করছেন।
অরাজকতার এই সময়ে আন্তর্জাতিক নজরদারি ও কার্যকর রাজনৈতিক সমাধানই পারে হাইতির সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ও নিরাপত্তার আশা ফিরিয়ে আনতে।