ইস্তাম্বুলে ৬ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, আলোচনায় পরমাণু কর্মসূচি
কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেও আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি।
৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের একটি আরব দেশের এক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, মিসর, কাতার, তুরস্ক ও ওমানের ধারাবাহিক মধ্যস্থতা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলেই এই বৈঠকের পথ তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেও দুই পক্ষকে আলোচনায় আনতে এসব দেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। অপরদিকে ইরানের পক্ষে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সৌদি আরব, মিসর, তুরস্ক এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আলোচনার মূল বিষয় হিসেবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি থাকছে, যা দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার প্রধান কারণ।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে টানাপোড়েন চলছে। গত বছরের জুনে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত হয়, যা ১২ দিন স্থায়ী হওয়ার পর যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছালেও সম্পর্কের তিক্ততা কাটেনি।
এর মধ্যেই জানুয়ারির মাঝামাঝি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বড় ধরনের নৌবহর মোতায়েনের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। তবে একইসঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিতও মিলছে।
১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী। একইদিন সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেন, কয়েকটি মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরিতে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ন্যায়সঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসে, তবে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
উত্তেজনার সময়ে আলোচনার দরজা খোলা থাকাই সবচেয়ে বড় আশার কথা, কারণ যুদ্ধ নয়, সংলাপই পারে মানুষের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎকে সবচেয়ে ভালোভাবে রক্ষা করতে।