ইরান ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও মিসাইল প্রতিরক্ষা শক্তিশালী
মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের নৌবহর মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার ফলে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার শঙ্কা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র বিমান ও মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে অতিরিক্ত টার্মিনাল হাই অল্টিচুড এরিয়া ডিফেন্স থাড এবং পেট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। জর্দান, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব ও কাতারের ঘাঁটিগুলোকে বিমান ও মিসাইল হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, থাড ব্যবস্থার মাধ্যমে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব। অন্যদিকে পেট্রিয়ট ব্যবস্থাটি নিচু দিয়ে উড়ে আসা স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিশ্বে খুব অল্প কয়েকটি স্থানে থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। এ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থানান্তরের জন্য উল্লেখযোগ্য জনবল এবং বড় পরিসরের লজিস্টিক সহায়তার প্রয়োজন হয়।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ইরানে হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি, তবে কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সীমিত মাত্রার হামলা চালাতে পারে। তবে এতে ইরানের প্রতিক্রিয়া ব্যাপক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসরাইলসহ আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ইরানি পাল্টা হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো বক্তব্য দেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সংঘাত এড়ানোর লক্ষ্যেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। রোববার সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাকচি বলেন, তিনি নিশ্চিত যে দুই পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে। তবে আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের আস্থা নেই বলেও তিনি জানান। এজন্য দুই পক্ষের মিত্র দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে তা আঞ্চলিক যুদ্ধের জন্ম দিতে পারে। তেহরানে আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ রুহুল্লাহ খোমেনির প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এ সময় যুদ্ধ শুরু হলে তা বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, খামেনি এমন কথা বলবেন এটাই স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন, ইরানের কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বড় জাহাজগুলো অবস্থান করছে এবং তিনি আশা করেন আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি সম্ভব হবে। তবে চুক্তি না হলে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই দেখা যাবে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
সংঘাতের ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এই অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ সমাধানই এখন সবচেয়ে বড় আশা, কারণ একটি ভুল সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হয় অগণিত মানুষের স্বপ্ন আর নিরাপত্তাকে।