জাপানে রেকর্ড তুষারপাতে দুই সপ্তাহে নিহত অন্তত ৩০, জরুরি ব্যবস্থা জোরদার
জাপানে অস্বাভাবিক মাত্রার ভারী তুষারপাতে গত দুই সপ্তাহে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা ৩ ফেব্রুয়ারি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৯১ বছর বয়সী এক নারী, যাকে বাড়ির বাইরে প্রায় তিন মিটার উঁচু তুষারের স্তূপের নিচে চাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরাঞ্চলীয় আওমোরি প্রদেশে পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। প্রদেশটির কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় এখনো প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিটার পর্যন্ত তুষার জমে রয়েছে, যা স্থানীয় জীবনযাত্রাকে কার্যত স্থবির করে দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকে তুষারজনিত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, সাগর অব জাপান উপকূলজুড়ে শক্তিশালী শীতল বায়ুপ্রবাহের কারণে ব্যাপক তুষারপাত হয়েছে। অনেক এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি তুষার জমেছে বলে জানানো হয়েছে।
জাপানের ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারী তুষারপাত সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় মোট ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে আওমোরি প্রদেশের আজিগাসাওয়া এলাকার বাসিন্দা ৯১ বছর বয়সী কিনা জিন রয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, নিজের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে আসা তুষারের নিচে চাপা পড়ে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে তার পাশে একটি অ্যালুমিনিয়ামের বেলচাও পাওয়া যায়।
পুলিশ আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাদে জমে থাকা তুষার হঠাৎ গলে নিচে পড়ে যেতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষ করে ছাদের নিচে অবস্থান করলে প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আওমোরি প্রদেশের গভর্নর সোইচিরো মিয়াশিতা ২ ফেব্রুয়ারি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় জাপানের সামরিক বাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে। একা বসবাসকারী বয়স্কদের তুষার পরিষ্কারে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আওমোরি শহরের অনেক এলাকায় প্রায় ১ দশমিক ৮ মিটার উঁচু তুষারের দেয়াল তৈরি হয়েছে। সড়ক ও বসতবাড়ির আশপাশ থেকে তুষার সরাতে গিয়ে স্থানীয় কর্মীরা চরম চাপের মুখে পড়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর সতর্ক করে বলেন, ছাদ থেকে তুষার ধসে পড়া কিংবা ভবন ধসের মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি এখন অত্যন্ত গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রকৃতির কঠিন এই মুহূর্তে সতর্কতা আর মানবিক সহায়তাই পারে জীবন বাঁচাতে, আর প্রতিটি নিরাপদ সকালই হয়ে উঠতে পারে নতুন করে বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।