তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে কিউবা
তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে কিউবা। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জানিয়েছেন, হাভানা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা বিনিময় এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ থাকলেও তা এখনো আনুষ্ঠানিক সংলাপে রূপ নেয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর চাপ বাড়ানোর পর দুই দেশের যোগাযোগ আরও জোরালো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কিউবার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস ফার্নান্দেজ ডি কোসিও ৩ ফেব্রুয়ারি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানে যে কিউবা একটি গুরুতর, অর্থবহ ও দায়িত্বশীল সংলাপের জন্য প্রস্তুত। তবে বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার কাঠামো তৈরি হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভেনেজুয়েলায় আকস্মিক অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ধরে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকির মুখে পড়ে কিউবা সরকার, যার ফলে দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনার মাত্রাও বেড়েছে।
ডি কোসিও জানান, দুই দেশের মধ্যে দূতাবাস এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ সক্রিয় থাকলেও এখনো আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো টেবিল বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, যোগাযোগ আছে, কিন্তু আলোচনার টেবিল নেই।
এদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে কিউবার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংলাপ শুরু করা গেলে ভবিষ্যতে তা আরও বিস্তৃত আলোচনায় রূপ নিতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, কিউবার সংবিধান, অর্থনৈতিক কাঠামো এবং সমাজতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা আলোচনার বাইরে থাকবে।
বিশ্ব রাজনীতির টানাপোড়েনে কখনো কখনো একটি সংলাপই পারে উত্তেজনা কমিয়ে মানুষের জীবনে স্বস্তির নতুন পথ তৈরি করতে।