চার দিনের তুষারঝড়ের আশঙ্কা, যুক্তরাজ্যের বড় অংশে ৫২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষারপাতের পূর্বাভাস
যুক্তরাজ্যে আগামী সপ্তাহে টানা কয়েক দিন তীব্র তুষারঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে বলে বিভিন্ন আবহাওয়া মডেলের পূর্বাভাসে সতর্কতা উঠে এসেছে।
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এই পরিস্থিতি শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, একাধিক শক্তিশালী আবহাওয়া ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে আঘাত হানলে ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা তুষারে ঢেকে যেতে পারে এবং কিছু এলাকায় তুষারপাতের উচ্চতা সর্বোচ্চ ৫২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় উত্তরের অঞ্চলগুলোতে হালকা তুষার পড়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। উত্তর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের কিছু অংশে তুষারপাত শুরুর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে, যেখানে ম্যানচেস্টার ও গ্লাসগোর মতো শহরগুলোও প্রভাবিত হতে পারে।
পূর্বাভাস আরও বলছে, পরদিন সকালের দিকে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের দিকেও তুষার ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে সময় লন্ডন ও ব্রিস্টলের মতো এলাকায় তুষার জমার আশঙ্কা করা হচ্ছে, একই সঙ্গে স্কটল্যান্ডে তুষারের মাত্রা বাড়তে পারে।
দ্বিতীয় দফার আবহাওয়া ব্যবস্থাটি ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নাগাদ আরও সক্রিয় হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। এতে উত্তর আয়ারল্যান্ড ও ওয়েলস তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারে, পাশাপাশি লন্ডন, বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার, লিভারপুল, কার্ডিফ ও গ্লাসগোর মতো বড় শহরগুলোও তুষারপাতের প্রভাবে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রথম দুই দফার পর আরও একটি আবহাওয়া ব্যবস্থা সক্রিয় হলে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকায় তুষারচাদর পড়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই সময় সড়ক যোগাযোগ, যানবাহন চলাচল এবং দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। ভ্রমণ পরিকল্পনা থাকলে আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া এবং প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সবশেষে বলা যায়, প্রকৃতির এই কঠিন বার্তা মানুষের নিরাপত্তাকে সবচেয়ে আগে মনে করিয়ে দেয়, কারণ সচেতনতা আর প্রস্তুতিই পারে বিপদের সময়ে জীবনযাত্রাকে সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠতে।