দিনে গরম, রাতে শীত, মাঘে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি
মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে শীতের উপস্থিতি টের পাওয়া গেলেও দিন ও রাতের আবহাওয়ায় দেখা দিয়েছে স্পষ্ট তারতম্য। দিনের বেলায় গরম অনুভূত হলেও সন্ধ্যা নামতেই ঠান্ডা বাতাসে শীতের আমেজ ফিরছে। মৌসুমজুড়ে এবার তুলনামূলকভাবে শীত কম থাকলেও মাঘ মাসে সাধারণত কনকনে ঠান্ডা থাকার কথা, অথচ বর্তমানে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকায় মানুষকে ভোগাচ্ছে অস্বস্তিকর আবহাওয়া।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই সময়ে স্বাভাবিক যে তাপমাত্রা থাকার কথা, তার তুলনায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি রয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
সোমবার সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা জানান, বর্তমানে দেশের আকাশ পরিষ্কার থাকায় দিনের পুরো সময় সূর্যের আলো পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে দিনে কিছুটা গরম লাগলেও রাতের দিকে স্বাভাবিক নিয়মেই ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বাতাস এখনো উত্তর দিক থেকেই প্রবাহিত হচ্ছে, তবে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকায় দিন ও রাতের ব্যবধান বেশি চোখে পড়ছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে তিনি বলেন, এই অবস্থা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর ৬ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরে ধীরে ধীরে আবার বাড়তে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণভাবে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শীত থাকার কথা থাকলেও বাংলাদেশে ১৫ ফেব্রুয়ারির পর শীতের তীব্রতা আর তেমন থাকে না।
আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা আরও জানান, মাঘ মাসে এমন অস্বাভাবিক আবহাওয়া মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে। দিনের বেলায় তাপ বিকিরণ কম থাকায় গরম বেশি অনুভূত হয়, আর বিকালের পর থেকে তাপ বিকিরণ বেড়ে যাওয়ায় ঠান্ডা বাড়তে থাকে।
এদিকে দিন ও রাতের এই ঠান্ডা গরমের পরিবর্তনের কারণে বয়স্ক ও শিশুরা নানা অসুস্থতায় আক্রান্ত হচ্ছেন। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিন আউটডোরে ভাইরাস জ্বর, সর্দি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যাদের অবস্থা বেশি গুরুতর, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, এবারের বিরূপ আবহাওয়ায় শিশুরাই বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা শিশুদের গরম পোশাক পরানো এবং সন্ধ্যার পর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ঠান্ডাজনিত সংক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
সবশেষে বলা যায়, আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক ওঠানামা শুধু অস্বস্তিই নয়, স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াচ্ছে, তাই সতর্কতা আর যত্নই হতে পারে এই সময়ের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।