ইমরানের দলের ১৮০ কর্মীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, সিন্ধু সরকারের অস্বীকার
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ অভিযোগ করেছে, তাদের অন্তত ১৮০ জন কর্মীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়েছে। দলটির দাবি, করাচি ও সিন্ধুর বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে এসব কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পিটিআইয়ের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে সিন্ধু প্রাদেশিক সরকার।
পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে করাচি এবং সিন্ধুর অন্যান্য অংশে রাতভর অভিযান চালানো হয়। দলটির অভিযোগ, সিন্ধু প্রাদেশিক পুলিশের এই অভিযানে তাদের কর্মী ও নেতাদের বাড়িতে ঢুকে প্রায় ১৮০ জনকে আটক করা হয়েছে। পিটিআই এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক নিপীড়নের অংশ।
দলটির অভিযোগ, আগামী ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঘোষিত প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি বানচাল করতেই প্রদেশজুড়ে গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হচ্ছে। পিটিআই দাবি করেছে, আন্দোলনের প্রস্তুতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে পিটিআই সিন্ধুর সভাপতি হালিম আদিল শেখ বলেন, তাদের ০৮ ফেব্রুয়ারির ধর্মঘট ও কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হবে। তিনি অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তার এবং পুলিশি অভিযান চালিয়ে পিটিআইয়ের আন্দোলন থামানো সম্ভব নয় এবং দলটি তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না।
অন্যদিকে সিন্ধু প্রাদেশিক সরকার পিটিআইয়ের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পিটিআই যে দাবি করছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী ০৮ ফেব্রুয়ারির প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরির জন্য পিটিআই উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে।
সবশেষে বলা যায়, রাজনৈতিক মতবিরোধ যখন সংঘাতের রূপ নেয়, তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষের শান্তি ও স্থিতিশীলতা, আর সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সংযম ও দায়িত্বশীলতার পথই হয়ে ওঠে সবচেয়ে জরুরি।